বীরভূমে তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্বস্তি ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। লাভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিংহের পর এবার জেলা কোর কমিটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেন রামপুরহাটের প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকেও অব্যাহতি চেয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। ফলে অনুব্রত মণ্ডলের নেতৃত্বাধীন জেলা সংগঠনকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের একাংশে অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছিল। তার মধ্যেই বীরভূমে একের পর এক নেতার সাংগঠনিক দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি দল ছাড়ছেন না; বরং সাধারণ কর্মী হিসেবেই দলের সঙ্গে থাকতে চান।
মঙ্গলবার এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কোর কমিটির কার্যকারিতা এবং সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রশ্ন তুলে অভিজিৎ সিংহ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি সেই বক্তব্যের সঙ্গে একমত। সেই কারণেই সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে মাঠস্তরের কর্মী হিসেবে কাজ করতে চান।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই লাভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ জেলা কোর কমিটির নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সদস্যপদ ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন। এরপর কোর কমিটির আরেক সদস্য কাজল শেখও প্রকাশ্যে কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শুধু তাই নয়, কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেই আবহে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ নতুন মাত্রা যোগ করল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বীরভূম জেলা তৃণমূলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মতপার্থক্য ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই অসন্তোষকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। একের পর এক নেতার অবস্থান বদল জেলা সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
প্রসঙ্গত, বামফ্রন্ট আমলেও তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী মুখ ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০১ সাল থেকে টানা ২৫ বছর রামপুরহাট কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই নীরব ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। দলের বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ আরও বাড়বে এবং আগামী দিনে আরও নেতার অবস্থান বদল দেখা যেতে পারে।
এখন দেখার, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং বীরভূমে তৃণমূলের সাংগঠনিক সমীকরণ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়।



