দেশজুড়ে ধর্মের রাজনীতির আবহে এবার রাজ্যকেও সরাসরি কাঠগড়ায় তুললেন সিপিএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। জলপাইগুড়ির রবীন্দ্র ভবনে বাম প্রভাবিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী সমিতির ৮২তম রাজ্য সম্মেলনে এসে সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর কড়া মন্তব্য—“দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও ধর্মের খিচুড়ি রান্না হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে মানুষকেই বলিষ্ঠভাবে রায় দিতে হবে।”
এদিন শিলিগুড়িতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র মন্তব্য—‘তৃণমূলের তুলনায় বামেরা ভাল’—নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিকাশবাবুর কটাক্ষ, “ভোট এলেই বিজেপি এই সব কথা বলে। আসলে বিজেপি বুঝে গিয়েছে, বামেদের ভোটব্যাঙ্ক এখনও ভয় ধরাচ্ছে।” তাঁর দাবি, বিজেপি ভোটের আগে কৌশলগতভাবেই এই বার্তা দিচ্ছে।


একইসঙ্গে তৃণমূলকেও নিশানা করতে ছাড়েননি তিনি। বিকাশ রঞ্জনের অভিযোগ, রাজ্যে জগন্নাথধাম বা মহাকাল মন্দির নির্মাণ আসলে আরএসএস-এর কর্মসূচিরই প্রতিফলন। তাঁর কথায়, “সুকৌশলে আরএসএসের কর্মসূচিই বাস্তবায়িত হচ্ছে রাজ্যে।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে আক্রমণ করে বিকাশবাবু বলেন, “শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের কাজের সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন ধর্মের ব্যবসায়ীরা। একসময় তিনিই ইমামদের ভাতা দিতেন। মামলায় তা বন্ধ হতেই পুরোহিতরাও ভাতার দাবি তুললেন। এভাবেই রাজ্যে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা হয়েছে।”
শুধু ধর্মীয় রাজনীতি নয়, SIR প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন সিপিএম নেতা। তাঁর দাবি, “SIR-এর জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুপ্রবেশ তত্ত্ব। মানুষের উচিত এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।”


কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়েও কটাক্ষ করতে ভোলেননি বিকাশ রঞ্জন। তীব্র ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হলেই টাকার দাম আরও কমবে। দেশে অস্থিরতা বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশ ছেড়ে পালাবে।”
তবে হুমায়ুন কবীর ও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-কে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জল্পনা নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যান বিকাশ রঞ্জন। শুধু এটুকুই বলেন, “হুমায়ুন কবীরকে আমরা হিসেবের মধ্যেই রাখছি।”
সব মিলিয়ে, জলপাইগুড়ির মঞ্চ থেকে বিজেপি ও তৃণমূল—দু’পক্ষকেই একসঙ্গে আক্রমণ করে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও চড়াল সিপিএম।







