কলকাতা: বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সমাজমাধ্যমের পোস্ট থেকে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দ সরাতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পোস্ট সংশোধন না করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই হুঁশিয়ারির পরেও নিজের অবস্থানে অনড় সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। পাল্টা জবাবে তাঁর বক্তব্য, “১০০টা তদন্ত করুন একটা কেন? কিন্তু তদন্তের শেষ পরিণতিতে উনি কোথায় দাঁড়াবেন, সেটা ওঁকেও ভাবতে হবে।” সংবিধানের বাংলা অনুবাদ মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিকাশরঞ্জনের পোস্ট নিয়ে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর আপত্তি, বাড়িতে হামলার অভিযোগ জানাতে গিয়ে বিকাশরঞ্জন যে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তাতে হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। পোস্ট থেকে ওই শব্দ সরিয়ে সংশোধন না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ছিল সাংবাদিক বৈঠকের পর ২৪ ঘণ্টা।
শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির জবাবে বিকাশরঞ্জন বলেন, “১০০টা তদন্ত করুন একটা কেন? কিন্তু, তদন্তের শেষ পরিণতিতে উনি কোথায় দাঁড়াবেন, সেটা ওঁকেও ভাবতে হবে। একটা সংবিধানের বাংলা অনুবাদ জোগাড় করে ওঁকে আমি দিয়ে দেব, উনি পড়ুন। পড়ে নিন।” অর্থাৎ, তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিতে পোস্টের ভাষা বদলানোর কথা বলেননি তিনি। বরং সংবিধানের বাংলা অনুবাদ পড়ার পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা বার্তা দিয়েছেন।
বিতর্কের সূত্র বৃহস্পতিবার ভোরের ঘটনা। বিকাশরঞ্জনের অভিযোগ, ওই সময় তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা’ তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তাঁর বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে মুখ ঢাকা এক ব্যক্তিকে বোতল ছুড়তে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর পোস্টে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, বিকাশরঞ্জনের বিরুদ্ধে কসবা ও গড়ফা থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita) অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পোস্টের শব্দপ্রয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি এবং বাড়িতে হামলার অভিযোগ—দুটি পৃথক বিষয়। হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।
এখন নজর বিকাশরঞ্জনের পোস্টে। শুভেন্দুর বেঁধে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দটি সরাবেন কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির জবাবে সংবিধানের বাংলা অনুবাদ পাঠানোর কথা বলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সিপিএম নেতা।



