পরিবর্তনের নয়, বরং স্থিতিশীলতার ম্যান্ডেটেই এগিয়ে চলেছে পাটলিপুত্র। গণনা প্রায় শেষের পথে দাঁড়িয়ে এনডিএ এখন নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতার বহু ওপরে। বিজেপি, জেডিইউ, এলজেপি এবং হাম– এই চার দল মিলে শক্তিশালী জোট হিসাবে বিহারের ক্ষমতা দখলের রূপরেখা তৈরি করে ফেলেছে। কিন্তু এই জোর জয়ের মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— ‘বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হবেন কে?’ ফোকাস কি সত্যিই নীতিশ কুমার, নাকি অন্য কোনও সমঝোতা?
নির্বাচনী প্রচারে বারবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ নীতীশের নাম উচ্চারণ করলেও জোটের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কখনও মুখ্যমন্ত্রী মুখ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ভোটে এগিয়ে থাকলেও নীতীশকে সামনে রেখে এনডিএ এগোলেও, তিনিই যে মুখ্যমন্ত্রী হবেন— তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।


নীতীশ মুখ্যমন্ত্রী হবেন? টুইট করে ডিলিট করল জেডিইউ, বিহার জয়ে এনডিএ-তে নতুন সংশয়
বর্তমান গণনা অনুযায়ী বিজেপি এগিয়ে আছে ৯০টি আসনে, জেডিইউ ৮৪টিতে। তবে চমক এনে দিয়েছে চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (LJP)— ২৯টি আসনে লড়াই করে ১৯টিতেই এগিয়ে। পাশাপাশি হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (HAM) এগিয়ে আছে পাঁচটিতে। স্পষ্ট, সংখ্যার অঙ্কে এই দুই দলই এনডিএর ভিত আরও শক্ত করেছে। ফলে সরকার গঠনে যেমন ভূমিকা থাকবে, তেমনি মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনেও কেন্দ্রীয় প্রভাব তৈরি করতে পারে এলজেপি ও হাম।

ঠিক এই পরিস্থিতিতেই ঘটে গেল সবচেয়ে আলোচনাযোগ্য ঘটনা। জেডিইউর অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে টুইট করা হল— ‘মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নীতীশ ছিলেন এবং আগামিদিনেও থাকবেন।’ এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই টুইট ডিলিট হয়ে যায়। কেন? চাপ কি বিজেপির? নাকি জোটের শরিকদের আপত্তি?
টুইট ডিলিট হওয়ায় জল্পনা আরও বাড়ল— তবে কি মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার একাধিক? বিজেপি কি চাইছে অন্য মুখকে সামনে আনতে? নাকি এটি জেডিইউর অতি উৎসাহের প্রকাশ, যা পরে নেতৃত্বই থামিয়ে দেয়?


এরই মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিল আরেক খবর। বিহারের ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরি পৌঁছে গেলেন নীতীশ কুমারের বাসভবনে। সেখানে বৈঠক শুরু হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। বৈঠকের মূল আলোচ্য কি— আগামী বিহার সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মুখ চূড়ান্ত করা? নাকি বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের ‘বিশ্বাস’ আদায় করতে চেষ্টা চলছে?
বিহারের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনডিএ যতই জোর ফল পাক, অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এখনও অস্থির। বিজেপির শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন, এলজেপির অপ্রত্যাশিত উত্থান এবং হামের সক্রিয় উপস্থিতি— সব মিলিয়ে নীতীশ কুমারের অবস্থান আগের মতো অটল নয়। তার ওপর জেডিইউর টুইট-ডিলিট বিতর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
নীতীশ কুমার ২০০৫ সাল থেকে ‘সুশাসন বাবু’ হিসেবে পরিচিত। ক্যারিশমা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার জোরেই বহু বছর ধরে বিহার রাজনীতির কেন্দ্রে তিনি। কিন্তু এবার বিপুল জয়ের পরও কেন তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে এত প্রশ্ন? কারণ বাড়তি ক্ষমতা মানেই বাড়তি দর-কষাকষি। আর এই দর-কষাকষির কেন্দ্রেই এখন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদের অঙ্ক।
গণনা শেষ হলেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পথ খুলে যাবে। সেই ঘোষণা কি আবারও নীতীশ কুমার-কে সামনে আনবে? নাকি বিহারের নতুন রাজনৈতিক অঙ্কে দেখা যাবে নতুন মুখ? এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।







