তিন বছর পর কেন তদন্ত শুরু হল? শুভব্রত হত্যা মামলায় শুভেন্দুকে স্বস্তি হাইকোর্টের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ তিন বছর পর কেন তদন্ত শুরু হল? শুভব্রত হত্যা মামলায় শুভেন্দুকে তলব করেছে CID, সোমবার তাকে হাজিরা দিতে বলেছিল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। তার পরিপ্রেক্ষিতে সকালেই সুরক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেছিলেন শুভেন্দুর আইনজীবী। আর দুপুরেই সেই মামলায় রক্ষাকবচ পেলেন বিরোধী দলনেতা। দেহরক্ষী খুনের ওই মামলা সহ মোট তিনটি মামলায় স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

আরো পড়ুনঃ শুভেন্দুর আবদার নাকচ দিলীপের, মমতাকে হারাতে ‘অন্য লোক’ খুঁজছে বিজেপি

এ দিন মোট শুভেন্দুর বিরুদ্ধে হ্ওয়া পাঁচটি মামলার শুনানি হয়, তার মধ্যে তিনটি মামলায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টের তরফে। বিচারপতি রাজশেখর মান্থার অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে প্রশ্ন করেন, তিন বছর পর কেন তদন্ত শুরু হল? কোন বিশেষ কারন?  জবাবে কিশোর দত্ত পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘শুভেন্দু কেন সিবিআই তদন্তের কথা বলছেন? একজন বিরোধী দলের নেতা, একজন বিধায়ক কিভাবে তদন্ত এড়াতে পারেন?’ তখন বিচারপতি বলেন, ‘তিন বছর প্রয়োজন হল না কাউকে জিজ্ঞেস করার। এখন কি পরিবেশ বদলাল, যে তদন্ত পূনরায় শুরু করা হল?

কিশোর দত্ত জবাব দেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত চলছিল। এবার আসল তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের প্রয়োজন হয়।’ তখন বিচারপতি বলেন, ‘গ্রেফতার আসলে প্রতিহিংসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই দেশে এটাই প্রচলিত, কোনও নতুন কিছু নয়। তিন বছর কিছু হয়নি৷ এমনকি স্ত্রীও আসেন নি। এটাই উদ্বেগের।’ তিনি বলেন, ‘বলছি না তদন্ত করবেন না। গ্রহণযোগ্য কিন্তু এই মুহুর্তে জরুরি কি না সেটা দেখতে হবে।’

তিন বছর পর কেন তদন্ত শুরু হল? শুভব্রত হত্যা মামলায় শুভেন্দুকে স্বস্তি হাইকোর্টের।

তিন বছর পর কেন তদন্ত শুরু হল? শুভব্রত হত্যা মামলায় শুভেন্দুকে স্বস্তি হাইকোর্টের।

সূত্রের খবর, যেদিন শুভব্রত গুলিবিদ্ধ হন সেদিন ঘটনার পরেই শুভেন্দু ফোন করেছিলেন তিলক চক্রবর্তীকে। কি কথা হয়েছিল তাঁদের, তা লিপিবদ্ধ করেছে তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, শুভেন্দুর নিরাপত্তারক্ষী ‘খুনে’ জাল গোটাচ্ছে CID! পর্দাফাঁস হবে দ্রুততার সাথে। উল্লেখ্য, স্বামীর মৃত্যু ধোঁয়াশা কাটিয়ে সত্যতা জানতে ঘটনার প্রায় তিন বছর পর অভিযোগ দায়ের করেছেন সুপর্না।

অভিযোগ পত্রে তিনি বলেছেন, “প্রায় ৬-৭ বছর শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন তাঁর স্বামী।” গত ১৩/১০/২০১৮ তে তাঁর স্বামী সকাল ১০টা নাগাত ফোনে জানান বাড়ি ফেরার কথা। কিন্তু তিনি আর ফেরেন নি। সুপর্ণা খবর পান তাঁর স্বামীর মাথায় গুলি লেগেছে, গুলি চালিয়েছেন নিজেই।

ঘটনার প্রায় ৩ বছর পর সুপর্ণা অভিযোগ দায়ের করেছেন কাঁথি থানায়। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে খুন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করে শুরু হয়েছে তদন্ত। অভিযোগকারিণীর এফআইআর এ উঠে এসেছে শুভেন্দু ঘনিষ্ট রাখাল বেরার নামও। কিছুটা চাপে পড়েই এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী বললে জেল খেটে নেব, এফআইআর-এর কারণটা রাজনৈতিক। আমাকে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ নেই।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন