চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও ভারতীয় দলের জার্সিতে ফিরেছেন ভুবনেশ্বর কুমার। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ৩৬ বছর বয়সি এই পেসার। তবে প্রত্যাবর্তন নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি না করে নিজের কাজেই মন দিতে চান তিনি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) প্রকাশিত ভিডিওবার্তায় সেই মানসিকতার কথাই তুলে ধরেছেন ভুবি।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স করতে পারেননি অভিজ্ঞ এই বোলার। চার ওভার বল করে ৪৯ রান দিয়েছেন, কিন্তু কোনও উইকেট পাননি। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁর বোলিং কেমন হয়, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।
জাতীয় দলে ফেরার অনুভূতি জানাতে গিয়ে ভুবনেশ্বর বলেছেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে গর্বের আর কিছু হতে পারে না। দ্বিতীয়বার সেই সুযোগ পেয়ে তিনি খুশি। তবে নিজের কাছে অতিরিক্ত প্রত্যাশা রাখেননি বলেও জানিয়েছেন এই পেসার।
ভুবির কথায়, গত তিন-চার বছর ধরে তিনি নিজের কাজ করে গিয়েছেন। জাতীয় দলে ফেরার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে নিজের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সের উপরই মনোযোগ দিয়েছেন।
এই বক্তব্যে তাঁর দীর্ঘ অপেক্ষার সময়কার মানসিকতার ইঙ্গিত মিলেছে। জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও অনুশীলন ও নিজের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকা যে তাঁকে মানসিকভাবে পরিণত করেছে, তা-ও জানিয়েছেন ভুবনেশ্বর। ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে বর্তমানের উপর মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
ভুবির বক্তব্য, নিজেদের মধ্যে আলোচনার সময়ও বাস্তবের মাটিতে থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। গত তিন-চার বছরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ না পেলেও নিজের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও পরিণত হতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ও চাপ সামলানো গুরুত্বপূর্ণ। ভুবনেশ্বরের বক্তব্যে সেই চাপকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নিজের কাজ করে যাওয়ার মানসিকতাই স্পষ্ট।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভুবনেশ্বরের পরিসংখ্যান অবশ্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। চার ওভারে ৪৯ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি তিনি। ভারত ম্যাচ জিতলেও তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়েই কোনও বোলারের সামগ্রিক সামর্থ্য বিচার করা যায় না। দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের বোলিংয়ে উন্নতি ঘটিয়ে ছন্দ ফিরে পাওয়াই এখন তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজিল্যান্ডের পরিবেশে পেসাররা অনেক সময় সুইংয়ের সুবিধা পেয়ে থাকেন। সেই পরিস্থিতি ভুবনেশ্বরের বোলিংয়ের পক্ষে সহায়ক হতে পারে। তবে কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগাতে হলে লাইন, লেংথ এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাও জরুরি।
দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে জায়গা ধরে রাখা যে সহজ নয়, তা ক্রিকেটের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশেই স্পষ্ট। ভুবনেশ্বরের সামনে এখন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের চ্যালেঞ্জ। নতুন করে সুযোগ পাওয়ার পর নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করতে হলে তাঁকে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।
তবে এই সিরিজের পরই তিনি নিয়মিত জাতীয় দলে জায়গা করে নেবেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। দলের প্রয়োজন, অন্য পেসারদের পারফরম্যান্স এবং নির্বাচকদের পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ভুবনেশ্বর আপাতত ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না। নিজের বক্তব্যেই তিনি বুঝিয়েছেন, অতিরিক্ত প্রত্যাশার বদলে বর্তমানের কাজের উপর মনোযোগ দেওয়াই তাঁর পছন্দ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরের ম্যাচে সেই মানসিকতার প্রতিফলন মাঠে কতটা দেখা যায়, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।



