কারণ করোনা, প্রথা ভেঙে ভারত সেবাশ্রমে দেওয়া হল আমিষ ঢোকানোর অনুমতি।

কারণ করোনা, প্রথা ভেঙে ভারত সেবাশ্রমে দেওয়া হল আমিষ ঢোকানোর অনুমতি।
কারণ করোনা, প্রথা ভেঙে ভারত সেবাশ্রমে দেওয়া হল আমিষ ঢোকানোর অনুমতি।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ কারণ করোনা, প্রথা ভেঙে ভারত সেবাশ্রমে দেওয়া হল আমিষ ঢোকানোর অনুমতি। করোনার মারণ কামড়ে কাবু গোটা দেশ। এমন অবস্থায় করোনা যুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালাচ্ছে গোটা দেশের মানুষ। মানুষের বিপদে বরাবরই প্রথম সারিতে লড়াই করে এসেছে ১০৪ বছরের প্রাচীন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ। আশ্রমের গড়িয়া শাখার একটি বাড়িতে শুরু হয়েছে করোনা রোগীদের জন্য পরিষেবা কেন্দ্র। আপাতত ২৫টি শয্যা নিয়ে চালু হলেও কিছুদিন পরেই মোট ৩০টি শয্যা থাকবে এই কেন্দ্রে।

আরও পড়ুনঃ ময়দানে চমক, রাশিয়া থেকে উয়েফা ক্যাবিনেটের কোচ নিয়ে এল মহামেডান।

এথেনা এডুকেশনাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট নামক সংস্থার সাথে আশ্রম হাত মিলিয়ে শুরু করেছে এই উদ্যোগ। এই পরিসেবা চালুর সাথেই এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে আশ্রম করতিপক্ষ। করোনা রোগীদের কথা ভেবেই যা ১০৪ বছরে কোনদিন হয়নি তারই অনুমতি দিল আশ্রম। রোগীদের প্রয়োজনে মাছ, মাংস, ডিম ও অন্যান্য আমিষ খাদ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হল। আজ নয়া এই করোনা পরিসেবার উদ্বোধন করে ভারত সেবাশ্রম সংঘের সাধারণ সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দজী মহারাজ জানান “আশ্রমের কেউ তো খাচ্ছেন না। রোগীদের প্রয়োজনের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, ওষুধের সঙ্গে তাঁদের পুষ্টিকর খাবারও দরকার।”

তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এথেনা এডুকেশনাল ট্রাস্টের রাজীব দত্ত জানিয়েছেন, “এ এক অসাধারণ সিদ্ধান্ত। ভারতে ভারত সেবাশ্রম সংঘের কোথাও কোনও কেন্দ্রেই আমিষ খাদ্য ঢোকানোর অনুমতি নেই। শুধুমাত্র রোগীদের কথা ভেবেই এই অনুমতি দিয়েছেন তাঁরা। আশ্রমের মধ্যে যে বাড়িটিতে এই পরিষেবা কেন্দ্রটি চালু হল তার নাম সুরেন্দ্রনাথ মেমোরিয়াল হল। সেইসঙ্গে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিষেবা কেন্দ্রটির জন্য একটি তিনতলা বাড়ি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এখানে কাজের প্রয়োজনে যে বিদ্যুত্‍ খরচ হবে সেই টাকাও নিতে চাননি তাঁরা। আমরা ঠিক করেছি বিদ্যুতের খরচটা নিজেরা দেব।” প্রসঙ্গত এই কেন্দ্রটিতে ৩০টি শয্যার মধ্যে ২০টিতে থাকবে অক্সিজেন ও বাইপ্যাপ সাপোর্টের সুবিধা। বাকি ১০টি শয্যা নিয়ে হচ্ছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। দিন ও রাত, সবসময়ই থাকবে চিকিত্‍সক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়।

কারণ করোনা, প্রথা ভেঙে ভারত সেবাশ্রমে দেওয়া হল আমিষ ঢোকানোর অনুমতি। প্রয়োজনে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থাও করা হবে। নামমাত্র টাকাতেই মিলবে এই পরিসেবা। রোগীদের প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হবে। যেটা এই মুহূর্তে রাজ্যের যে কোনও বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় কিছুই নয়। আপ্লুত রাজীববাবু জানিয়েছেন, ছাত্র থাকাকালীন তিনি সংঘের ছাত্রাবাসে থাকতেন। ফলে একটা পূর্ব পরিচিতি ছিল এবং এঁদের এই সিদ্ধান্তে তিনি সত্যি কৃতজ্ঞ। মনে করলেন সেই আপ্তবাক্য, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here