ফের অশান্ত ভাঙড়! বোমার আঘাতে জখম তৃণমূলকর্মী, অভিযোগের তির নওশাদের দলের দিকে

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে ফের বোমাবাজি। তৃণমূলকর্মীর হাত ঝলসে যাওয়ার অভিযোগে আইএসএফের দিকে আঙুল, যদিও হামলার দায় অস্বীকার নওশাদের দলের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজনৈতিক অস্থিরতার মানচিত্রে আবারও জ্বলজ্বল করছে ভাঙড়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই এলাকায় ফের বোমাবাজির ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, নওশাদ সিদ্দিকির দলের কর্মীদের ছোড়া বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন এক তৃণমূলকর্মী। বোমার বিস্ফোরণে তাঁর হাতের অংশ ঝলসে গিয়েছে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি, নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে ভাঙড়ের বানতলা চর্মনগরী এলাকার চালতাবেড়িয়া অঞ্চলে, পুরনো পাগলা হাটের কাছে এই বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে আচমকাই কামাল পুরকাইত নামে ওই তৃণমূলকর্মীকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বিস্ফোরণের অভিঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে কামালকে রাস্তায় যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, কামালের বাঁ হাতের কিছু অংশ গুরুতরভাবে ঝলসে গিয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ভাঙড় কার্যত থমথমে। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভাঙড় ডিভিশনের উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ।

এদিকে অভিযোগের তির সরাসরি গিয়ে পড়েছে নওশাদ সিদ্দিকি-র দলের দিকে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। দলের নেতা মালেক মোল্লার দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। তাঁর বক্তব্য,
“তৃণমূলকর্মীরাই এলাকায় বোমা নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। অসাবধানতাবশত সেই বোমাই ফেটে যায়। আইএসএফকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা বলে দাবি করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, ভাঙড়ে বারবার অশান্তি ছড়িয়ে এলাকা অস্থির করার চেষ্টা চলছে।

দুই পক্ষের পাল্টা অভিযোগের মাঝে পুলিশি তদন্তই এখন একমাত্র ভরসা। বোমাবাজির নেপথ্যে কারা, রাজনৈতিক যোগসূত্র কতটা—সব দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত