নজরবন্দি ব্যুরোঃ মমতার মাস্টারস্ট্রোকে বিপাকে দিলীপরা! কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্বারস্থ বঙ্গ বিজেপি। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। রাজ্যের যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ ইতিমধ্যেই নেমে পড়েছে ভোট ময়দানে। রাজ্যের বিয়াল্লিশ টি আসনের মধ্যে গত লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন পেয়ে টগবগ করে ফুটছিল গেরুয়া ব্রিগেড। সমর্থকরা অপেক্ষমান আর তো মাত্র কয়েকমাস! তারপরেই বাংলার মসনদে বসছে বিজেপি। অনেকে আবার মনে মনে মন্ত্রীসভা গঠন করে ফেলেছেন! এখন থেকেই কে কোন আসনে দাঁড়াবেন তার জন্যে লোকাল নেতারা যোগাযোগ এবং তৈল মর্দন করতে শুরু করেছেন নিজের পরিচিত সার্কেলের নেতাদের।
আরও পড়ুনঃ গরু পাচার কাণ্ডে নির্বাচনের গন্ধ! CBI-স্ক্যানারে রাজ্যের ১৪ রাঘব বোয়াল।
মমতার মাস্টারস্ট্রোকে বিপাকে দিলীপরা! বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়-সহ রাজ্য নেতারা জাতীয় নেতৃত্বকে দিয়েই এ রাজ্যে প্রচারাভিযান শুরু করতে চেয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, পীযূষ গোয়েল, প্রহ্লাদ প্যাটেল, নরেন্দ্র সিং তোমার, ধর্মেন্দ্র প্রধান ও কিরেন রিজিজুকে পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন। বিজেপি সূত্রের খবর মন্ত্রীরা প্রায় দেড় মাস প্রচার চালাবেন রাজ্যে! কিন্তু কেন? রাজ্য নেতৃত্বে আস্থা নেই? বিজেপি সূত্র জানাচ্ছে, স্মৃতি ইরানি ভাল বাংলা বলতে পারেন, কিরেন রিজিজু উত্তরবঙ্গে প্রচার চালাবেন ঘরের ছেলে হয়ে। এ রাজ্যে রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই পীযূষ গোয়েল কে দিয়ে প্রচার চালানো হবে!
লোকসভার অঙ্কে বিজেপি রাজ্যের ১২১ টি আসনে এগিয়ে থাকলেও ম্যাজিক ক্রশ করা যে সহজ হবে না তা ভালই বুঝেছেন রাজ্যের গেরুয়া নেতৃত্ব। এছাড়াও লোকসভার কিছুদিন পরেই দিল্লির নির্বাচন বুঝিয়েছে অঙ্ক কঠিন। দিল্লিতে লোকসভার সব আসনে জয় পেয়ে এবং ৭০ আসনের বিধানসভায় ৬৫ আসনে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮টি আসন পেয়ে দিল্লি বিধানসভায় থেমে গেছে বিজেপি-র বিজয়রথ। অন্যদিকে বিজেপি-র প্রচারে কখনই প্রাধান্য পায়নি কর্মসংস্থান, স্বনির্ভরতা বা উন্নয়নের ইস্যু। সর্বদাই বিজেপি-র প্রচার কৌশল নির্ভর করে দেশপ্রেমের জিগির, পাকিস্তান, দেশদ্রোহী ইস্যুর। কমবেশি সব বিজেপি নেতাই বোঝানোর চেষ্টা করেন তাঁরা দেশপ্রেমিক আর বিজেপি বিরোধীরা দেশদ্রোহী!
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বে অনেক নতুন মুখ এলেও নতুন কোন ইস্যু নেই। বরং বিজেপি নেতারা মনোনিবেশ করেছেন কিভাবে তৃণমূল থেকে নেতা ভাঙিয়ে আনা যায়। আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত অর্জুন, পায়ের তল খ্যাত মনিরুল, তোয়ালে খ্যাত প্রাক্তন মেয়র শোভনরা বিজেপির হয়ে ব্যাট করবেন তৃণমূল কে পরাজিত করে দূর্নীতি মুক্ত বাংলা গড়ার জন্যে! ব্যাপারটা হজম করতে পারছেন না বিজেপির নিচু তলার লোকজনই।
এদিকে করোনার প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। রাজকোষ প্রায় ফাঁকা, কিন্তু রাজ্যের বেতনভুক্ত কোন কর্মী বা শিক্ষক সঠিক সময়ে বেতন পাননি এই অভিযোগ করা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক মন্দা সামলে নিয়ে বেতন বাড়ানো হয়েছে একাধিক ক্ষেত্রে। ইমাম ভাতার পর পুরোহিত ভাতা, আমফান হওয়ার পর প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ পেয়েছেন ত্রান। বিরোধীরা চুরি বা বেনিয়মের অভিযোগ তুললেও কড়া হাতে তা দমন করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী! এরমধ্যে গতকাল পুজো আবহে প্রত্যেক পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা সাহায্য, বিদ্যুৎ বিলের অর্ধেক ভর্তুকি বা পুরসভার কর ছাড় দিয়ে মাস্টার স্ট্রোক দিয়েছেন মমতা।
একদিকে যখন এইসব চলছে তখন বাংলায় মমতার পাল্টা মুখ হবেন কে সেটাই ঠিক করতে পারেনি বঙ্গ বিজেপি। লোকসভায় ব্র্যান্ড মোদি হলেও বিধানসভায় ব্র্যান্ড যে মমতা তা বিলক্ষন বোঝেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। কেউ বিষয়টি না বুঝতে পারলে একটু দিল্লী নির্বাচনের দিকে তাকান। বুঝবেন আঞ্চলিক ভোটের প্রেক্ষিতে ব্র্যান্ড কিভাবে তফাত গড়ে দেয়। অন্যদিকে বামেদের কমিউনিটি কিচেন এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি খানিকটা হলেও ফিরিয়ে এনেছে জনসমর্থক। লোকসভায় ৭% তে নেমে যাওয়া বাম যদি ১০% তেও পৌঁছাতে পারে তাহলে ব্যাপকভাবে ফল খারাপ হবে বিজেপি-র। কারন লকসভায় বিজেপির ভোট বাড়লেও ভোট কমেনি তৃণমূলের। বরং বেড়েছে। বাম ভোটের প্রায় ৮০ শতাংশ বিজেপি-তে চলে গিয়েছিল লোকসভা নির্বাচনে। অর্থাৎ অঙ্ক বেশ কঠিন নয়, সহজ!



