বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গ বিজেপি দলবদল নিয়ে চূড়ান্ত কড়াকড়ির পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ২০২১ সালে যেখানে দলবদলুদের দর আক্ষরিক অর্থে আকাশছোঁয়া ছিল, সেখানে এখন সল্টলেক দফতরের নতুন নিয়ম স্পষ্ট—টিকিটের আশ্বাসে দলে যোগ দেওয়া আর চলবে না।
কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের সময়ে তৃণমূলের একাধিক নেতাকে চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি নিয়ে গিয়ে বিজেপির পতাকা ধরানো হয়েছিল। কিন্তু এখন চলছে সুনীল বনসল–এর যুগ। তাঁর নেতৃত্বে বঙ্গ বিজেপিতে দলবদল নীতি বদলে যাচ্ছে ভিত্তি থেকে।


বঙ্গ বিজেপি-কে দলবদল নিয়ে কড়া বার্তা, টিকিটের আশ্বাসে যোগদানের দরজা বন্ধ করছে পদ্ম শিবির
মণ্ডল স্তরেই যোগদান, নয় আর কোনও জমকালো ‘যোগদান মেলা’
দক্ষিণবঙ্গের এক জেলার বৈঠকে বনসল স্পষ্ট জানান যে, স্থানীয় নেতারা বিজেপিতে আসতে চাইলে মণ্ডল বা জেলা নেতৃত্বই তাঁদের স্বাগত জানাবে। কিন্তু পাঁচ বছর আগের মতো রাজ্য দফতরে বিশাল অনুষ্ঠানে যোগদান করানোর কোনও সুযোগ নেই।
বঙ্গ বিজেপি দলবদল নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, টিকিট পাওয়ার আশায় যারা ভোটের আগে যোগ দিতে চাইবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দলের আগ্রহ শূন্য। নিঃশর্ত যোগদান ছাড়া কোনও পথে বিজেপিতে প্রবেশ নয়।
প্রভাবশালী হলেও টিকিট নয়, ‘নিঃশর্ত যোগদানই’ একমাত্র নিয়ম
বিজেপি সূত্রে খবর, জেলা বা রাজ্য স্তরের প্রভাবশালী অ-বিজেপি নেতারা দলে আসতে চাইলে বনসলের কঠোর নিয়মই প্রযোজ্য হবে। কোনও ক্ষেত্রেই তাঁদের টিকিটের গ্যারান্টি দেওয়া হবে না।


২০১৯ থেকে ২০২১—এই সময়েই তৃণমূলের বহু মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ককে বিজেপিতে টানতে আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছিল পদ্মশিবির। সেই সময়ই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশালী ডালমিয়া, প্রবীর ঘোষালদের চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি নিয়ে গিয়ে শাহের উপস্থিতিতে দলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, টিকিট দেওয়ার পরেও তাঁরা দলকে প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেননি।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বদলে যাচ্ছে বঙ্গ বিজেপি দলবদল কৌশল।
২০২১-এর শিক্ষা: ভারিক্কি নেতায় ভরসা ভুল ছিল
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথম সারির তৃণমূল নেতাদের দলবদলের ফলে বিজেপির ভাবমূর্তিতে উল্টো চাপ পড়েছিল। দলীয় ভোটব্যাঙ্কে খুব বেশি লাভ না হওয়ায় নয়া নেতৃত্ব এবার সতর্ক।
বনসলের বার্তা নিয়ে মুখ না খুললেও, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অগ্নিমিত্রা পাল জানান, দলে সবাই আসতে পারেন। কিন্তু কিছু পাওয়ার লোভে এলে চলবে না। অন্য দল থেকে আসা ব্যক্তিকেও একইভাবে নতুন কর্মী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
বঙ্গ বিজেপি দলবদল নীতি তাই এখন একটাই—নিঃশর্ত, স্বচ্ছ ও সংগঠন-কেন্দ্রিক
এই নতুন নীতির ফলে টিকিটের আশায় হঠাৎ যোগদান করে দ্রুত প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল। রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরে মনে করা হচ্ছে, এই কৌশল সংগঠনকে স্থিরতা দেবে এবং ভোটের আগে অনাকাঙ্ক্ষিত গোলমালও কমাবে।
বঙ্গ বিজেপি দলবদল বিষয়টি তাই এখন আর প্রাক-নির্বাচনী বাজার নয়—বরং কেন্দ্রের স্পষ্ট আদর্শিক অবস্থান।








