বিক্ষোভের নামে ক্রমশ নৈরাজ্য—মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় ফের আতঙ্ক ছড়াল যাত্রীবাহী বাসে পাথর হামলার ঘটনায়। রেলগেট ভাঙা, রেললাইন ও রাস্তা অবরোধের পর এ বার চলন্ত বাসকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হল। ঘটনায় ছ’জন যাত্রী জখম, দু’জন হাসপাতালে ভর্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ। বিকেল পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
শুক্রবার থেকেই উত্তপ্ত ছিল বেলডাঙা। শনিবার সকাল থেকে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। বড়ুয়া মোড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। ভাঙা হয় লেভেল ক্রসিং, ফলে জাতীয় সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাতায়াতকারীরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুক্রবার বিহারের ছাপরায় পরিযায়ী শ্রমিক আনিসুর শেখকে বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তা ও মারধর করা হয়; তাঁর বুকের হাড় ভেঙে যায়। সেই খবর গ্রামে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। আহত শ্রমিককে অ্যাম্বুল্যান্সে করে অবরোধস্থলে আনা হলেও পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই উত্তেজনার মাঝেই মালদহ থেকে কৃষ্ণনগরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস বেলডাঙা দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার মুখে পড়ে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা বাস লক্ষ্য করে একের পর এক পাথর ছোড়ে। চালকের সামনের কাচ ভেঙে যায়। আতঙ্কে চালক আসন ছেড়ে নেমে পড়েন, যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন। কাচ ভেঙে ও ইটের আঘাতে কয়েক জন যাত্রী জখম হন। কোনওমতে বাস থেকে নেমে এদিক-ওদিক ছুটে প্রাণ বাঁচান তাঁরা।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুপুরেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন করা হয়। রেললাইন অবরোধকারীদের লাঠিচার্জ করে সরানো হয়, রাস্তায় তাড়া করে ছত্রভঙ্গ করা হয় বিক্ষোভকারীদের। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানায় প্রশাসন। জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ-এর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য, আইন নিজের হাতে নেওয়া বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ যাত্রীদের উপর হামলার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিকেল পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তদন্ত চলছে—আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে ইঙ্গিত প্রশাসনের।










