প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে বড় সতর্কতা: বাংলাদেশ-মদতপুষ্ট ও খালিস্তানি হামলার আশঙ্কায় দিল্লি জুড়ে হাই অ্যালার্ট

প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে গোয়েন্দা সতর্কতা। বাংলাদেশ-মদতপুষ্ট ও খালিস্তানি হামলার আশঙ্কায় দিল্লি-এনসিআর সহ একাধিক রাজ্যে জোরদার নিরাপত্তা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তার আগেই রাজধানী দিল্লি-সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে জারি হল কড়া নিরাপত্তা সতর্কতা। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ-মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত খালিস্তানি নেটওয়ার্ক যৌথভাবে নাশকতার চেষ্টা করতে পারে। এই সম্ভাব্য হুমকির কথা মাথায় রেখেই শনিবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন।

সংবাদ সংস্থা ANI সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, Intelligence Bureau সতর্ক করেছে যে পঞ্জাবের কয়েকটি গ্যাংস্টার গোষ্ঠী বর্তমানে বিদেশে বসে থাকা খালিস্তানি ও উগ্রপন্থী চক্রের ‘লোকাল অপারেটর’ হিসেবে কাজ করছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কগুলি হরিয়ানা, দিল্লি-এনসিআর, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থান জুড়ে সক্রিয় এবং ধীরে ধীরে খালিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করছে।

২৬ জানুয়ারির প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজকে কেন্দ্র করে তাই দিল্লি জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। Delhi Police-র উত্তর জেলা পুলিশ ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল এলাকাগুলিতে একাধিক মহড়া চালিয়েছে। জানুয়ারির শুরু থেকে লালকেল্লা, আইএসবিটি কাশ্মীর গেট, চাঁদনি চক, খারি বাওলি, সদর বাজার এবং বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন-সহ সংবেদনশীল এলাকায় অন্তত চারটি সন্ত্রাসবিরোধী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মহড়ার লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য হামলার সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক রাখার প্রস্তুতি যাচাই করা।

এ বছর কর্তব্য পথে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অন্তত ৩০টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হবে, যেখানে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উন্নয়নমূলক অর্জনের ছবি তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়িয়েছে উচ্চপর্যায়ের বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট Antonio Luís Santos da Costa এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট Ursula von der Leyen ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে আসছেন।

বিদেশ মন্ত্রকের মতে, নরেন্দ্র মোদি-র আমন্ত্রণেই এই সফর। ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে তাঁরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন—এই প্রথমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব একসঙ্গে এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি ভারত–ইইউ কৌশলগত অংশীদারিত্বের গভীরতার স্পষ্ট বার্তা।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি কোস্টা ও ভন ডের লেয়েন ২৭ জানুয়ারি ১৬তম ভারত–ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। সফরকালে তাঁরা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সীমিত ও প্রতিনিধিদল স্তরের বৈঠকেও অংশ নেবেন।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যস্ততা ও গোয়েন্দা সতর্কতার যুগল চাপে প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে রাজধানী দিল্লি কার্যত হাই অ্যালার্টে। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা—ঝুঁকি এড়াতে কোনও ফাঁক রাখা হবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন