অনেকেই নিয়ম মেনে ডায়েট করেন, ক্যালোরি কমান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীরচর্চা করেন। তবুও ওজনের কাঁটা যেন নড়তেই চায় না। অন্যদিকে একই ডায়েট মেনে চলেও কারও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মেদ ঝরতে শুরু করে। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—একই পরিশ্রমে ফলের এত পার্থক্য কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমা শুধু ডায়েটের উপর নির্ভর করে না, এর পিছনে জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, ঘুম, মানসিক চাপ এবং জীবনযাত্রার মতো একাধিক কারণ কাজ করে।
কেন কারও ওজন দ্রুত কমে, আবার কারও কমতে চায় না?
১. জিনগত বৈশিষ্ট্য (Genetics)
প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা। কারও শরীর দ্রুত ক্যালোরি পোড়াতে পারে, আবার কারও বিপাকক্রিয়া (Metabolism) তুলনামূলক ধীর। তাই একই খাবার খেলেও দুই জনের শরীরে ভিন্ন প্রভাব পড়ে।
২. বিপাকক্রিয়া (Metabolism) ধীর হলে
যাঁদের বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) কম, তাঁদের শরীর বিশ্রাম অবস্থায়ও কম ক্যালোরি খরচ করে। ফলে কড়া ডায়েট করলেও ওজন কমার গতি ধীর হতে পারে।
৩. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
থাইরয়েডের সমস্যা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা কর্টিসল হরমোন বেড়ে গেলে ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলি বেশি দেখা যায়।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম না হলে
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টার কম ঘুম হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। ফলে বারবার খিদে পায় এবং শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে।
৫. অতিরিক্ত মানসিক চাপ
দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমতে পারে এবং ওজন কমানো কঠিন হয়ে ওঠে।
৬. শুধু ডায়েট, ব্যায়াম নয়
অনেকে মনে করেন শুধু খাবার কম খেলেই ওজন কমবে। কিন্তু নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম (Strength Training) এবং হাঁটা বা কার্ডিও না করলে পেশি কমে যেতে পারে, যার ফলে বিপাকক্রিয়াও ধীর হয়ে যায়।
৭. লুকিয়ে থাকা ক্যালোরি
চা-কফিতে চিনি, সফট ড্রিংক, প্যাকেটজাত জুস, সস, বিস্কুট বা বারবার অল্প অল্প করে খাওয়ার ফলে অনেক অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে ঢুকে যায়, যা অনেকেই হিসাব করেন না।
ওজন কমাতে কী করবেন?
- প্রতিদিন সুষম খাদ্য খান, একেবারে না খেয়ে থাকবেন না।
- প্রোটিন, আঁশ এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখুন।
- সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- পর্যাপ্ত জল পান করুন।
- প্রতি সপ্তাহে ওজনের পাশাপাশি কোমরের মাপও নোট করুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
কয়েক মাস নিয়মিত ডায়েট ও ব্যায়াম করার পরও যদি ওজন না কমে, অথবা হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে ওজন বাড়তে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে থাইরয়েড, রক্তে শর্করা, ইনসুলিন বা হরমোনের পরীক্ষা করা হতে পারে।
সারাংশ
কড়া ডায়েট করলেই যে ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। শরীরের বিপাকক্রিয়া, হরমোন, জিনগত বৈশিষ্ট্য, ঘুম, মানসিক চাপ এবং দৈনন্দিন অভ্যাস—সব মিলিয়েই নির্ধারণ করে ওজন কমার গতি। তাই অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা না করে, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার উপর জোর দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।






