উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে রবিবার গভীর রাতে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানে নামল রাজ্য প্রশাসন। সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা একাধিক মসজিদ ও মাদ্রাসা বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। কড়া পুলিশি পাহারায় দীপা সরাই এলাকার একাধিক গ্রামে এই অভিযান চলে। ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও জমি-উচ্ছেদ নীতি নিয়ে।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ ছিল। নোটিস ও যাচাই প্রক্রিয়ার পর রবিবার রাতে একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের আগেই অনেক জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই নির্মাণ ভেঙে ফেলেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। জেলা প্রশাসনের মতে, এটি “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ”—এবং কোনও ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং অবৈধ দখলই ছিল লক্ষ্য।
এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন সম্ভলের জেলাশাসক রাজেন্দ্র পেনসিয়া এবং পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই। একই সময়ে বিদ্যুৎ চুরি রোধে পৃথক অভিযানও চালায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর। উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরে সম্ভলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনার পর থেকে বড় পরিসরে ধরপাকড় এবং বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ জোরদার করেছে প্রশাসন।

সম্ভলের শাহী মসজিদ-কে কেন্দ্র করে একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। হিন্দু পক্ষের দাবি, মোগল সম্রাট বাবরের আমলে একটি মন্দির ভেঙে ওই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল—এই অভিযোগ ঘিরে গত বছর এলাকায় হিংসাও ছড়ায়। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, রবিবারের উচ্ছেদ অভিযান ওই মামলার রায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি জমি দখল সংক্রান্ত।
অন্যদিকে, শাহী মসজিদ কমিটি এই দাবির বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য, Places of Worship Act, 1991 অনুযায়ী ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্টে যে উপাসনাস্থল যেখানে যে রূপে ছিল, তার চরিত্র পরিবর্তন করা যাবে না। আইনের ব্যতিক্রম হিসেবে কেবল অযোধ্যার রাম জন্মভূমি–বাবরি মসজিদ মামলাকেই রাখা হয়েছিল। ফলে ইতিহাসের ব্যাখ্যা দিয়ে বর্তমান উপাসনাস্থলের চরিত্র বদলের প্রশ্ন ওঠে না—এমনটাই কমিটির দাবি।
রাজ্য সরকারের তরফে বারবার বলা হচ্ছে, উচ্ছেদ অভিযান ধর্মভিত্তিক নয়, বেআইনি দখল উচ্ছেদই উদ্দেশ্য। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের কড়া অবস্থান—আইনভঙ্গ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এই বার্তাই প্রশাসন পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে বিরোধী শিবির ও নাগরিক সংগঠনগুলির একাংশ এই ধরনের রাতের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
সব মিলিয়ে, সম্ভলের উচ্ছেদ অভিযান প্রশাসনিক দৃঢ়তার বার্তা দিলেও, বিচারাধীন মামলার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।



