নজরবন্দি ব্যুরো: গত সপ্তাহের শুক্রবার বেহালার রাস্তায় দুর্ঘটনায় স্কুল পড়ুয়া সৌরনীলের মৃত্যু গোটা বাংলায় সাড়া ফেলে দিয়েছে। অন্যান্য দিনের মতই বাবার সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল, রাস্তা পারাপারের সময় লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গিয়েছে ৮ বছরের ছোট্ট শিশুর। এবার এই ঘটনার জল গড়াল আদালতেও। জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে।
আরও পড়ুন: বেহালায় শিশুমৃত্যুর থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শহরে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে নতুন নিয়ম শুরু
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস। তিনি আদালতে আর্জি জানিয়েছেন যাতে কিছু নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়। মামলাকারীর দাবি, রাজ্যজুড়ে প্রতিটি স্কুলের সামনে যেন ট্র্যাফিক সিগন্যাল ঠিকঠাক মানা হয়, স্কুলে ঢোকা ও বেরোনোর সময় যাতে ঠিকঠাক গাইডলাইন থাকে সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশ দিক আদালত। এছাড়াও আরও কয়েকটি দাবি রয়েছে, যেসমস্ত স্কুলগুলি ব্যস্ত রাস্তার কাছাকাছি সেখানে যেন ‘গাড়ি আস্তে চালান’ কথাটি তিনটি ভাষায় লেখা বোর্ড বা ব্যানার লাগানো থাকে। জাতীয় সড়ক ছাড়া অন্যান্য রাস্তার ধারের স্কুলগুলির বাইরে একটি স্পিড ব্রেকার (বাম্পার) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

নবপল্লী রবীন্দ্রনাথ টেগোর রোডের বাসিন্দা সৌরনীল সরকার বড়িশা হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়া ছিল। গত শুক্রবার স্কুলে পরীক্ষা ছিল তার। বাবার হাত ধরেই স্কুলের পথে এসেছিল। সকাল ৭ টা নাগাদ ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সৌরনীলের। তার বাবার পায়ের উপর দিয়ে লরি চলে গিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। চোখের সামনে একমাত্র সন্তানের এই পরিণতি দেখেন, বাস্তবকে কোনওভাবেই এখনও মেনে নিতে পারছেন না। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর মৃত শিশুর মাকে খবর দেওয়া হয়। ছেলের স্কুল ব্যাগ আঁকড়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। যে ছেলে এক মিনিটও এক জায়গায় থাকত না, সে যে আর নেই, একথা ভাবতেই পারছেন না তিনি।

সৌরনীলের মৃত্যুর পর পরিবারকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এমনকি মৃত শিশুটির বাবার চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব রাজ্য সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পাশাপাশি ঘাতক লরির চালক এবং খালাসিরও কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী৷ এই দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশি প্রহরা বেড়েছে। তৎপর হয়েছে প্রশাসন। এক ছোট্ট শিশুর প্রাণের বিনিময়ে এত দেরিতে কেন ব্যবস্থা করা হল? এনিয়েও নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে।
সৌরনীলের মর্মান্তিক মৃত্যুকাণ্ড গড়াল আদালতে, দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা




