বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর প্রথমবার মুখ খুললেন নির্যাতিতার বাবা। পুলিশের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির উপর তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার নবান্ন থেকে সরাসরি বারুইপুরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। সেই সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের।
এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা। উনি আমাকে কথা দিয়েছিলেন, অপরাধীদের কাউকেই ছাড়া হবে না। আমি দাদার কাজে খুশি। পুলিশের উপরও আমার ভরসা রয়েছে। আমার বিশ্বাস, আমার মেয়ে শেষ পর্যন্ত বিচার পাবে।”
গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার তদন্তে দ্রুত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। তদন্তের অগ্রগতিতে প্রথমে প্রভাস মণ্ডল, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আরও এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকেও গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় তিনি এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং গুলি চালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এরপর আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর শুধু নির্যাতিতার পরিবার নয়, প্রভাসের পরিবারের প্রতিক্রিয়াও আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রথমে তাঁর মা দেহ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে সংবাদমাধ্যমে প্রভাসের স্ত্রীও দাবি করেন, স্বামীর বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষোভ ছিল এবং নিজের দোষের ফলেই এই পরিণতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হলেও তদন্তের কাজ এখনও চলছে। বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রস্তুত করা এবং মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপরই এখন নজর তদন্তকারীদের। নির্যাতিতার পরিবারের আশা, প্রশাসনের আশ্বাস অনুযায়ী দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হবে।



