দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) বারুইপুর (Baruipur)-এর ধপধপি এলাকায় একই পুকুর থেকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর সোমবার ওই পুকুর থেকেই উদ্ধার হয়েছে এক ব্যক্তির দেহ। মৃতের নাম কৃষ্ণকান্ত হালদার। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বারুইপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কৃষ্ণকান্ত হালদার গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর সোমবার পুকুরে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ। সেই সময়ই জলের নিচ থেকে আরও একটি দেহ উদ্ধার হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দেহটি কৃষ্ণকান্ত হালদারের বলে শনাক্ত করেন।
দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি খুন, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে কৃষ্ণকান্তের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ইতিমধ্যেই কৃষ্ণকান্ত হালদারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। তাঁর ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, রবিবার সকালে একই পুকুর থেকে এক নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর ধপধপি এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর খুন করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে মৃতদেহ রাস্তার উপর রেখে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। পাশাপাশি রেল অবরোধও করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। তাঁর নির্দেশে রবিবার বিকেলের মধ্যেই ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। এই সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্ত (Pinaki Dutta)।
তদন্তে নেমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আনন্দ সর্দার (Ananda Sardar)-কে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক দাবি, তিনিই এই মামলার মূল অভিযুক্ত। তাঁকে বারুইপুর আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হতে পারে।
তদন্তকারীদের অনুমান, আনন্দ সর্দারকে জেরা করলে এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। তাই দ্রুত মামলার কিনারা করতে মরিয়া তদন্তকারী দল।
এদিকে নাবালিকার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, যৌন নির্যাতনের পর ভারী কোনও বস্তু দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ।
একই পুকুর থেকে পরপর দু’দিন দুই দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ধপধপি এলাকায় এখনও আতঙ্কের পরিবেশ। দুটি মৃত্যুর মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, নাকি এগুলি সম্পূর্ণ আলাদা ঘটনা—তার উত্তর খুঁজতেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বারুইপুর থানার পুলিশ।






