বারুইপুর (Baruipur)-এর ১২ বছরের নাবালিকা খুনের মামলায় তদন্তে বড় অগ্রগতি। পরিবারের প্রথম থেকেই ওঠা ধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার মামলায় গণধর্ষণের ধারা যুক্ত করল পুলিশ। খুনের পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র গণধর্ষণ, পকসো-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বারুইপুর আদালত।
বারুইপুরের এই ঘটনায় প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তদন্তের সূত্র ধরে ধরা পড়ে দিবাকর সর্দার। সোমবার দু’জনকেই বারুইপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান, মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, নমুনা সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও বাকি। পাশাপাশি প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেই কারণেই অভিযুক্তদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়, যা আদালত মঞ্জুর করেছে। আগামী ২০ জুলাই ফের তাঁদের আদালতে হাজির করানো হবে।
এদিকে সোমবার আনন্দ সর্দার নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁকে মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে।
এই মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ধর্ষণ (ধারা ৬৫), গণধর্ষণ [৭০(২)], খুন [১০৩(১)], তথ্যপ্রমাণ লোপাট (২৩৮) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (৬১) ধারার পাশাপাশি পকসো (POCSO) আইনের ৬ নম্বর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। পকসো ধারা যুক্ত হওয়ায় মামলার বিচারপ্রক্রিয়া কোন আদালতে চলবে, তা নিয়েও আইনি মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই তদন্তে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করার পর তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। এরপর তদন্তের পরিধি বাড়তেই একে একে আরও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ‘জঘন্যতম’ অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার যা যা প্রয়োজন, সব করবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, নিহত নাবালিকার পরিবারের দাবিগুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) বলেন, অপরাধীর পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান নয়, একজন মহিলার উপর অত্যাচার হয়েছে কি না, সেটাই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বারুইপুরের নাবালিকা খুনের ঘটনায় গণধর্ষণের ধারা যুক্ত হওয়ায় তদন্ত এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পুলিশ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা করছে। আগামী কয়েক দিনের তদন্ত ও আদালতের শুনানির দিকে নজর থাকবে রাজ্যজুড়ে।






