বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র। তাদের ইঙ্গিত অনুযায়ী, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা Inter-Services Intelligence (আইএসআই)-এর একটি ‘ঢাকা সেল’ দেশের ভেতরে অশান্তির বাতাবরণ উসকে দিতে ভূমিকা রাখতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন বলেই জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ঢাকায় আইএসআই উপস্থিতি
২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনুস। সেই সময় থেকেই ঢাকা–ইসলামাবাদ সম্পর্ক ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়। কয়েক মাস আগে পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল শাহিদ শামসাদ মির্জা ঢাকা সফরে গিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন—এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় আইএসআইয়ের একটি অফিস খোলার অনুমোদন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গোয়েন্দা সূত্র কী বলছে
বাংলাদেশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে সূত্র জানিয়েছে, আইএসআইয়ের ঢাকা সেলের সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে—রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা, এবং দেশের অভ্যন্তরে চরমপন্থী শক্তির প্রভাব বাড়ানো। তবে এসব দাবি প্রাথমিক তথ্যের ওপর নির্ভরশীল এবং যাচাই চলছে।
আরও কিছু সূত্রের মতে, দীর্ঘমেয়াদে ভারতের নিরাপত্তাই আইএসআইয়ের বৃহত্তর লক্ষ্য হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে সীমান্তপথে অনুপ্রবেশ ও প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। আগামী বছরে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন—এই সময়সীমাকে মাথায় রেখে বাড়তি নজরদারির কথাও বলছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

সীমান্ত ও নির্বাচন—দুই দিকেই সতর্কতা
আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ঢাকায় আইএসআইয়ের উপস্থিতি বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে চাপ বাড়াতে পারে। সীমান্ত সুরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে সরকারি স্তরে এখনই কোনও চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়নি।
নিশ্চিতকরণ নেই, নজরদারি জোরদার
এই মুহূর্তে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, সেগুলি গোয়েন্দা সূত্রনির্ভর। কোনও সরকারি সংস্থা এখনও প্রকাশ্যে আইএসআইয়ের ‘ঢাকা সেল’কে সাম্প্রতিক হিংসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেনি। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চলছে—এ কথা মানছেন সংশ্লিষ্টরা।



