টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত। ভারতীয় ভেন্যুতে খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ—এই অবস্থানে অনড় থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, ICC তাদের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ২১ জানুয়ারির ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দেয়নি। ফলে, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা থামার বদলে নতুন করে গতি পেল।
BCB-র ডিরেক্টর আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, গত ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় ICC-র এক প্রতিনিধির সঙ্গে হওয়া বৈঠকে বাংলাদেশ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিয়ে বোর্ড কী ভাবছে এবং কেন নির্দিষ্ট ভেন্যুতে খেলতে পারছে না—সবটাই জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে সেই বৈঠকে ICC কবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে, সে বিষয়ে কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি বলেই দাবি BCB-র।


এই বক্তব্য সরাসরি খণ্ডন করছে সাম্প্রতিক কিছু সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট। সেখানে বলা হয়েছিল, ICC বাংলাদেশকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে এবং ভারতে খেলতে অস্বীকার করলে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী অন্য দল নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। এমন খবর সামনে আসতেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয় তীব্র অনিশ্চয়তা।
এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত আরও আগে। আইপিএল ২০২৬-এর জন্য বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজ়ুর রহমান-কে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় BCCI। কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় চারপাশের ‘সার্বিক পরিস্থিতি’। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ভারত সফর এবং নিরাপত্তা নিয়ে আরও কড়া অবস্থান নেয় BCB।
সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতা ও **মুম্বই**য়ে। কিন্তু নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং ‘জাতীয় সম্মান’-এর প্রশ্ন তুলে ভারতে খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। অন্যদিকে, সূচি চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় ম্যাচ সরাতে খুব একটা আগ্রহী নয় ICC। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা, এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি অনুযায়ী সেখানেই হবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ।


সমাধানের পথ খুঁজতে BCB বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়, ইতালি, ইংল্যান্ড ও নেপাল আছে। বোর্ডের প্রস্তাব—শ্রীলঙ্কায় খেলা গ্রুপ ‘বি’-র আয়ারল্যান্ড-এর সঙ্গে গ্রুপ অদলবদল করা হোক, যাতে কম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়।
যদিও ICC-র রিপোর্টে ভারতে সরাসরি কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকির উল্লেখ নেই, তবু ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সিনিয়র ক্রিকেটাররা। প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবাল স্পষ্ট করে বলেছেন, আজ নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী এক দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটে পড়তে পারে।







