বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। ভোটের মুখে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রে নিষিদ্ধ ঘোষিত প্রাক্তন শাসক দল আওয়ামি লিগ। নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার প্রতিবাদে প্রকাশ্য আবেদনপত্র ছড়িয়ে ভোট বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। আবেদনপত্রের শিরোনামেই স্পষ্ট বার্তা—‘নো বোট, নো ভোট’। উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘নৌকা’ বা ‘বোট’ই আওয়ামি লিগের নির্বাচনী প্রতীক।
আবেদনপত্রে কড়া ভাষায় অভিযোগ তোলা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। সেখানে লেখা হয়েছে, “ফ্যাসিস্ট ইউনুস জঙ্গি পাহারায় ভোট করাতে চাইছে। সেই ভোট দিতে যাবেন না। যে ব্যালটে নৌকা প্রতীক থাকবে না, যে নির্বাচনে আওয়ামি লিগ অংশ নিতে পারবে না, সেখানে আমাদের সমর্থক কোনও ভোটারই ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।” শেষ লাইনে আবেগঘন স্লোগানে ডাকা হয়েছে প্রতিরোধে—“জেগে ওঠো বাংলাদেশ, রুখে দাঁড়াও বীর বাঙালি।”
দলের দাবি আরও এক ধাপ এগিয়ে। আওয়ামি লিগের বক্তব্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস-কে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তাদের মতে, যে নির্বাচনে আওয়ামি লিগ অংশ নিতে পারবে না, সেই নির্বাচন জনগণ কখনও মেনে নেবে না।
হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার চলছে। ক্ষমতায় আসার পরই ইউনুস সরকারের প্রথম বড় সিদ্ধান্তগুলির একটিই ছিল আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা। ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা-র দল লড়াইয়ের সুযোগ পাচ্ছে না। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মাঠ ছাড়তে রাজি নয় আওয়ামি লিগ। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত কর্মসূচি ও সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।
গত অক্টোবরেই নয়াদিল্লি থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষ আওয়ামি লিগকে সমর্থন করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা ভোট বয়কট করবেন। কোনও গণতন্ত্রে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।” সেই বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে সাম্প্রতিক এই আবেদনপত্রে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তাতে ভোটের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিল আওয়ামি লিগের এই ‘নো ভোট’ ডাক।



