বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে জনরোষ। ঢাকার মিরপুরে এক শিশুর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর এবার চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রতিবাদ, অবরোধ এবং নিরাপত্তা জোরদারের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ঢাকার মিরপুর এলাকায় গত সপ্তাহে সাত বছরের এক শিশুর ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ, পরিচিত এক ব্যক্তি শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে অপরাধের পর হত্যা করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদ দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভের জেরে রাজধানীর একাধিক এলাকায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বয়কট করে রাস্তায় নামেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন নিরাপত্তা বাড়ায় এবং সংবেদনশীল এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয় বলে জানা যায়।
এই ঘটনার আবহেই চট্টগ্রাম-এর বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয় সূত্রে খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে না রেখে সরাসরি শাস্তির দাবি জানায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে।
এদিকে শিশু নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনা নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দ্রুত তদন্ত, বিচার প্রক্রিয়ার গতি এবং শিশু সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে অভিযুক্তদের পরিচিত বা ঘনিষ্ঠ পরিসরের মানুষ হওয়ার অভিযোগও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এই মুহূর্তে দুই ঘটনাতেই তদন্ত চলছে। পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা, আইন প্রয়োগ এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে জনআলোচনা শুরু হয়েছে।



