সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রোধকে সামনে রেখে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণে গতি আনতে বিএসএফের হাতে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানাল রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন পর্যায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য, অনুপ্রবেশের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং সীমান্ত পরিকাঠামো শক্তিশালী করাই এখন অন্যতম অগ্রাধিকার।


মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে পড়ে। সেই কারণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও সুরক্ষা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখনও কিছু অংশে কাঁটাতার নির্মাণ অসম্পূর্ণ রয়েছে এবং তা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিন তিনি আগের সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে আগে জমি হস্তান্তরের সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। যদিও এই বিষয়ে আগের সরকারের কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
রাজ্য প্রশাসনের বক্তব্য, বর্তমানে যে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে, সেটি বৃহত্তর সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে পরবর্তী পর্যায়ের কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে।


সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে এই উদ্যোগের গুরুত্বও আলাদা। নিরাপত্তা, নজরদারি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ— এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সরকারের দাবি।
তবে সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন শুধু কাঁটাতার নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ পরিকাঠামো এবং সীমান্ত প্রশাসনের সমন্বয়ও গুরুত্ব পেতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত।
এখন দেখার, এই জমি হস্তান্তরের পর সীমান্তে বাস্তব কাজ কত দ্রুত শুরু হয় এবং বাকি অসম্পূর্ণ অংশগুলির কাজ কীভাবে এগোয়।



