ডব্লুবিসিএস (WBCS) পরীক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে বাংলা পক্ষের (Bangla Pokkho) দাবি অনেকদিনের। এই রাজ্যের ৮৬% মানুষ বাঙালি। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে লড়াই করার পর ২০২৩ সালের ১৫ ই মার্চ গেজেট নোটিফিকেশন করে সরকার জানিয়ে দেয় যে WBCS-এ ৩০০ নম্বরের বাংলা পেপার বাধ্যতামূলক হচ্ছে। পাহাড়ের জন্য নেপালী অপশন হিসাবে রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বঙ্গে বাড়ছে করোনা, উদ্বেগে স্বাস্থ্য দপ্তর, বাড়ছে সতর্কতা


গত ১১ ই জানুয়ারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করেন যে, WBCS এ বাংলা বাধ্যতামূলক থাকবে না, হিন্দি-উর্দু ঢোকানো হল। বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho) জানিয়েছে, নেপালি ও সাঁওতালিতে বাংলা পক্ষর সমস্যা নেই। বাংলার জনসংখ্যার মাত্র ২% হল উর্দু ভাষী৷ বাংলায় ৯৫% মুসলমান জাতিতে বাঙালি। কিন্তু উর্দু মানেই মুসলমানের স্বার্থ- এটা কেন দেখানো হয়? এটা বাঙালি মুসলমানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। বাঙালি মুসলমানরা গ্রামে থাকে, এটাই কি বাঙালি মুসলমানের পাপ? “বাংলা নিজের মেয়েকে চায়” এবং “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে বাঙালি আবেগ কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালে ভোট বৈতরণী পার করেছিল তৃণমূল। কিন্তু এখন কেন বাঙালিকে বঞ্চনা? কেন হিন্দি-উর্দু তোষণ? উর্দু ভাষী ও হিন্দি ভাষীরা শহরাঞ্চলে থাকে বলে তাদের এত প্রাধান্য? বাংলায় বাঙালির ভোট কিন্তু ৮৬%. বহিরাগতরা মাত্র ১০%।

ভারতের প্রতিটা রাজ্যে সিভিল সার্ভিসে সেই রাজ্যের ভাষার পেপার বাধ্যতামূলক। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়-
বিহারে ১০০ নম্বরের হিন্দি, গুজরাটে ১৫০ নম্বরের গুজরাটি, মহারাষ্ট্রে ১০০ নম্বরের মারাঠি, উত্তর প্রদেশ ও মধ্য প্রদেশে ৩০০ নম্বরের হিন্দি, কর্ণাটকে ১৫০ নম্বরের কন্নড় ইত্যাদি। উড়িষ্যায় সিভিল সার্ভিসে বসতে গেলে ওড়িয়া মাধ্যমে পড়াশোনা করতে হয় বা মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিকে ওড়িয়া বিষয় হিসাবে থাকতেই হয়। তামিলনাড়ুতে তামিল, এমনকি বাম শাসিত কেরালাতেও মালায়লম সাবজেক্ট বাধ্যতামূলক৷ অর্থাৎ বাংলা ছাড়া ভারতের সব রাজ্যেই সেই রাজ্যের মূল সরকারি ভাষার পেপার বাধ্যতামূলক।



বাংলা পক্ষের (Bangla Pokkho) কথায়, “কিন্তু বাংলায় হিন্দি-উর্দু অপশন কেন থাকবে? কার স্বার্থে? কাদের তোষণ কিছু ভোটের স্বার্থে? বাঙালি কি বিহার বা উত্তর প্রদেশে বাংলা ভাষায় রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে পারে? বাঙালি তো অন্য রাজ্যে চাকরি পায় না। কিন্তু ওরা বাংলা না জেনেও হিন্দি-উর্দুতে পরীক্ষা দিয়ে বাংলায় আমলা হয়ে যাচ্ছে WBCS দিয়ে। নিজের মাটিতেই বাংলার ছেলেমেয়েদের বঞ্চনা কেন?
WBCS পরীক্ষায় ‘হিন্দি-উর্দু’ অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের, ‘বাংলা’ বাধ্যতামূলক করার দাবিতে অনড় বাংলা পক্ষ
বাংলায় থাকবে, চাকরি করবে- কিন্তু বাংলা শিখতে এত অনীহা কেন? কেন এত বাংলা বিদ্বেষ? দশকের পর দশক বাংলায় থেকেও উর্দু-হিন্দি ভাষীরা বাংলা না শেখার কারণ কি? বাংলা না শিখলে তারা বাঙালিকে কিভাবে পরিষেবা দেবে? বাঙালি সহ ভূমিপুত্ররা কি বিডিও অফিসে গিয়ে হিন্দি/উর্দু বলবে?”

বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho) রাজ্য সরকারের বাঙালি তথা বাংলা বিরোধী এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। WBCS পরীক্ষায় হিন্দি-উর্দু ঢোকানো চলবে না। বাংলা বাধ্যতামূলক চাই। এই মর্মে বাংলা পক্ষ (ভারতে বাঙালির জাতীয় সংগঠন) সারা বাংলা জুড়ে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে। যতদিন না পর্যন্ত সরকার বাংলা বিরোধী এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ততদিন এই লড়াই চলবে। বাংলা জুড়ে স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং চাকরি প্রার্থীদের কাছে এই অন্যায়ের কথা তুলে ধরবে বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho)।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



