নজরবন্দি ব্যুরোঃ বঙ্গভঙ্গের দাবিদারকে মন্ত্রী করেছে কেন্দ্র, বাংলা পক্ষ-র প্রতিবাদ সভায় গর্জে উঠলেন গর্গ চট্টোপাধ্যায়। আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার চম্পাহাটি বটতলার মোড়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলা পক্ষ। এই বিক্ষোভ সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য সাম্প্রতিক কালে জন বারলা, সৌমিত্র খাঁ সহ একাধিক বিজেপি সাংসদ ও বিধায়ক এই রাজ্যকে ভাগ করার উদ্দেশ্যে একাধিক বার্তা দিচ্ছেন তাঁর প্রতিবাদ করা।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বাবুল? বিজেপি ত্যাগের ইঙ্গিত ট্যুইটারে!!


বিধানসভায় শোচনীয় পরাজয়ের পর বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা দাবি তুলছেন বাংলাকে ভাগ করার জন্যে। কেউ চান আলাদা হোক উত্তরবঙ্গ আবার কেউ চান রাঢ় বঙ্গ কে আলাদা করতে। সাংসদ সৌমিত্র খাঁ যেমন চান রাঢ় বঙ্গ কে আলাদা রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিতে, তেমনই অন্য সাংসদ জন বারলা চান উত্তর বঙ্গ কে আলাদা রাজ্য হিসেবে দেখতে। সেই বঙ্গভঙ্গের দাবিদারকে মন্ত্রী করেছে কেন্দ্র।
এদিকে কদিন আগেই সম্প্রসারিত হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি জন বারলা বা সৌমিত্র খাঁর বক্তব্য কে সমর্থন না করলেও প্রচ্ছন্ন মদত দিয়েছে কেন্দ্র। জন বারলা কে স্থান দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভায়। এমনিতেই বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভারতীয় জনতা পার্টির ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা ভালভাবে নেয়নি বাংলার জনগন। প্রমাণ মিলেছে ভোটবাক্সে। ২১৩ আসন জিতে রাজ্যে তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মোদি-শাহর ২০০ আসনের বিশ্বাস, বিশ্বাসভঙ্গের রূপ পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭-এ।
বঙ্গভঙ্গের দাবিদারকে মন্ত্রী করেছে কেন্দ্র, বাংলা পক্ষ-র প্রতিবাদ সভায় গর্জে উঠলেন বক্তারা
এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বঙ্গ ভঙ্গের সপক্ষে যুক্তি শানাচ্ছেন বিজেপির সাংসদ-বিধায়করা। এদিন তারই প্রতিবাদে পথে নামল বাংলা পক্ষ। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাপক্ষের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কৌশিক মাইতি, ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস, জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, চম্পাহাটি এলাকা কমিটির সম্পাদক শাহিদ ইকবাল মোল্লা।



বাংলা পক্ষ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বঙ্গভঙ্গের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলার প্রতিটা বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। তিনি বলেন, “বাংলা পক্ষ বাংলা ও বাঙালির শত্রুদের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে হলেও শেষ পর্যন্ত লড়বে। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই হবে৷ পাহাড় থেকে মোহনা- বাংলা পক্ষ লড়ছে।” পথসভার শেষে শতাধিক সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি দীর্ঘ মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে জন বারলা, সৌমিত্র খাঁ এবং রাজু বিস্তার কুশপুত্তলিকা দাহ করার মাধ্যমে।







