চিন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের সহায়তা চাইলেন এক বালোচ নেতা। বালোচিস্তানের প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত মির ইয়ার বালোচ ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-কে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। নতুন বছরের প্রথম দিন, ১ জানুয়ারি, তিনি চিঠিটি সামাজিক মাধ্যম X-এ প্রকাশ্যে শেয়ার করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কেও ট্যাগ করেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের আর্জি
চিঠিতে মির ইয়ার বালোচ ভারতের জনগণকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি মোদি সরকারের নিরাপত্তা নীতির প্রশংসা করেন, বিশেষ করে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে। তাঁর বক্তব্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত আরও সক্রিয় ভূমিকা নিলে বালোচিস্তান উপকৃত হবে।


সভ্যতা ও সংস্কৃতির বন্ধনের উল্লেখ
চিঠির একটি অংশে ভারত ও বালোচিস্তানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গ তোলেন বালোচ নেতা। তিনি হিংলাজ মাতা মন্দির (ননি মন্দির) এবং সংলগ্ন জাতীয় উদ্যানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই তীর্থস্থান দুই অঞ্চলের আধ্যাত্মিক ও সভ্যতাগত সম্পর্কের জীবন্ত প্রতীক। তাঁর মতে, এই বন্ধন কেবল সাংস্কৃতিক নয়, কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ভিত্তি হতে পারে।
চিন–পাকিস্তান জোট নিয়ে সতর্কতা
চিঠিতে সবচেয়ে জোরালো ভাষায় উঠে এসেছে পাকিস্তান ও চিনের কৌশলগত জোটের প্রসঙ্গ। মির ইয়ার বালোচ দাবি করেছেন, চিন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। স্থানীয় প্রতিরোধ অব্যাহত থাকলে বালোচিস্তানে চিনা সেনা মোতায়েন হতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু বালোচিস্তান নয়, ভারতের নিরাপত্তাও সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
পটভূমিতে বালোচিস্তানের অস্থিরতা
এই আবেদন এমন সময়ে এল, যখন বালোচিস্তান-এ অস্থিরতা অব্যাহত। বালোচ অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুম, সামরিক দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সংঘর্ষ বেড়েছে। পাশাপাশি, পরিকাঠামো প্রকল্প এবং চিন-সংযুক্ত সম্পত্তিতে হামলার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।


সব মিলিয়ে, মির ইয়ার বালোচের চিঠি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে আলো ফেলেছে। ভারতের কূটনৈতিক মহল এই আবেদনকে কী ভাবে দেখছে এবং এর কোনও প্রভাব পড়ে কি না—সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।







