হুগলির বৈদ্যবাটিতে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। অভিযোগ, মেয়ের বান্ধবী বাড়িতে আসার পর নিজের ঘরে তার সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন এক প্রৌঢ়। বাড়ি ফিরে নাবালিকা পরিবারের কাছে ঘটনার কথা জানালে রবিবার অভিযুক্তের বাড়িতে যান তার পরিজন ও স্থানীয় কয়েক জন। সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিযুক্তকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে নাবালিকার। সেই সূত্রেই তাঁর বাড়িতে যাতায়াত ছিল ওই কিশোরীর। অভিযোগ, এমনই এক সময়ে বাড়িতে মেয়ের বান্ধবীকে একা পেয়ে তার সঙ্গে যৌন হেনস্থার মতো আচরণ করেন অভিযুক্ত।
ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে নাবালিকা পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়। অভিযোগ, অভিযুক্ত তাঁকে ‘খারাপ ভাবে স্পর্শ’ করেছেন। এরপরই বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
রবিবার অভিযুক্তের বাড়ির সামনে জড়ো হন নাবালিকার পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কয়েক জন। প্রথমে কথাকাটাকাটি ও চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আরও লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, এরপরই অভিযুক্ত প্রৌঢ়কে মারধর শুরু করেন স্থানীয় কয়েক জন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে। শ্রীরামপুর মহিলা থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। নাবালিকার বয়ান-সহ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। চাঁপদানির বিধায়ক দিলীপ সিংহ (Dilip Singh) ঘটনার নিন্দা করে জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযোগে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তাঁর বক্তব্য, যে বা যাঁরাই এমন কাজ করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন মেনে পদক্ষেপ করা হবে এবং কাউকে কোনও রকম প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।
তবে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। আপাতত পকসো আইনে মামলা দায়ের করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। নাবালিকার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।



