নজরবন্দি ব্যুরোঃ হাফপ্যান্ট পরেই সাবওয়ে উদ্বোধন ‘হ্যাফপ্যান্ট মন্ত্রী’র, কটাক্ষের শিকার বাবুল সুপ্রিয়। তিনি কেন্দ্রের প্রতিমন্ত্রী। রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের প্রতিমন্ত্রীদের ‘হ্যাফপ্যান্ট মন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই রেওয়াজকে কার্যত ভীষণ রকম প্রাসঙ্গিক করে দিয়ে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের মুখে পড়লেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। যদিও গোটা বিষয়টিকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলেই ব্যাখা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ কথা রাখলেন মমতা, ঝাড়গ্রাম ও বীরভূমের একাংশে শুরু ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প।
আর এই বিষয়ে তিনি কাঠগড়ায় তুলেছেন রাজ্যের শাসক দল ও তাঁর এক নেতাকে। ঘটনার সূত্রপাত আসানসোল রেল ডিভিশনের সাবওয়ে উদ্বোধন ঘিরে। সেখানেই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল উদ্বোধনের জন্য। বুধবার সকালে মহীশিলা কলোনির বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাইক চালিয়ে সোজা বাবুল সুপ্রিয় চলে আসেন আসানসোল ডুরান্ড রেল কলোনিতে। জানা গিয়েছে, মোটরবাইক নিয়ে ওই সাবওয়েতে একচক্কর ঘুরেই উদ্বোধন পর্ব শেষ করেন তিনি। বাবুলের বাইক-প্রীতির কথা সকলেই জানেন।
তবে সমস্যার সূত্রপাত অন্য জায়গায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পরনে ছিল হাফপ্যান্ট। কিন্তু হাফপ্যান্ট পরে বাবুলের এই উদ্বোধন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের বন্যা বয়ে গিয়েছে। যদিও এতে খুশি সাধারণ মানুষ। এদিকে তৃণমূলের দাবি এলাকারই বিধায়ক তথা রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটককে এই বিষয়ে কিছু জানানোই হয়নি। এমনকি তৃণমূলের হাতে থাকে আসানসোল পুরনিগমকেও এই বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই নাকি এই সাবওয়ে নির্মাণের জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে দাবি করেছেন আসানসোলের তত্কালীন মেয়র তথা রানিগঞ্জের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়।
হাফপ্যান্ট পরেই সাবওয়ে উদ্বোধন ‘হ্যাফপ্যান্ট মন্ত্রী’র, কটাক্ষের শিকার বাবুল সুপ্রিয়। একিসঙ্গে বাবুলের হাফপ্যান্ট পরা নিয়ে কটাক্ষ করে জানান “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সাবওয়ে তৈরি করার সমস্ত রকম ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁরই তত্পরতায় সাবওয়ে নির্মাণে রেল মন্ত্রক পদক্ষেপ করেছিল। অথচ বাবুল সুপ্রিয় আজ হাফপ্যান্ট পড়ে বালখিল্যপনা করে বেড়াচ্ছেন।” যার জবাবে বাবুল বলেন “তাপসবাবুকে আমি আসানসোলের তৃণমূলের অন্য বিধায়কদের তুলনায় একজন ভদ্রলোক বলেই জানি। ওঁর মন্তব্যের জবাব দিতে চাই না। এটুকুই বলব, রাজ্য সরকারকে বাদ দিয়ে উনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আসানসোলের জন্য কী কী করেছেন তার সঙ্গে আমার কাজের তুলনা করলেই স্পষ্ট হবে, আসানসোলের মানুষের সঙ্গে বালখিল্যপনা কে করছেন।”



