প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দেশত্যাগ করেছেন। তবুও যেন নিস্তার নেই শেখ হাসিনার! এতদিন ছাত্রদের রোষের মুখে ছিলেন। তারপর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও চেয়েছিলেন শেখ হাসিনার অপসারণ। আর এবার খোদ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের নেতা নেত্রীরা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মুখ খোলা শুরু করলেন। তাঁদের বক্তব্য, আমাদের ফেলে রেখে উনি (পড়ুন হাসিনা) পালিয়ে গেলেন!
গত জুলাই মাসে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে যে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা অগস্টের প্রথম সপ্তাহেই রূপ নিল গণ আন্দোলনের। এবং, তার জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন শেখ হাসিনা। বোন রেহানাকে নিয়ে তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেলেন ভারতবর্ষে। দেশের শাসন ক্ষমতা চলে গেল সেনার হাতে। তবে সেনাশাসনের ২৪ ঘন্টা পার হলেও এখনও বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি বাংলাদেশের পরিস্থিতির। বিভিন্ন জেলায় জ্বলছে আগুন। মঙ্গলবার, একদিনে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক মানুষের। কার্যত দিকে দিকে হিংসার ছবি।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগ করার পর থেকেই আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-নেত্রী। তাঁদের বক্তব্য, “আমরা নেত্রীর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। আর এখন রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি। আর সেই সময় নেত্রী আমাদেরকে দুঃসময়ে ফেলে পালালেন।” সঙ্গে তাঁরা এও বলেছেন, “পদত্যাগই যদি করবেন, দেশ ছেড়েই যদি যাবেন, তাহলে আমাদেরকে কেন আন্দোলনের মুখোমুখি দাঁড় করালেন?”
জানা যাচ্ছে, সোমবার যে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবেন এবং দেশ ছাড়বেন তা জানতেন না আওয়ামী লীগের অনেক নেতানেত্রী। যাদের মধ্যে আবার অনেকে হাসিনার ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার ৬ জন সদস্য এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ৫ জন নেতা এই মুহূর্তে রাগে ফুঁসছেন। তাঁদের কথায়, হাসিনা একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং জেদ দেখিয়েছেন, যে কারণে আজ নেতাকর্মীদের বিপদে পড়তে হচ্ছে। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাকিদেরকে বিপদে ফেলে তিনি পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ হাসিনার দলের সদস্যদের।



