নজরবন্দি ব্যুরোঃ গোটা দেশ জুড়ে সমালোচনার ঢেউয়ে এখন একটি পরিচিত নাম অরিজিৎ সিং। যিনি সব সময় বিতর্ক এড়িয়ে চলেন, দিতে চান না সাক্ষাৎকার, নিজেকে আড়ালেই রাখতেই পছন্দ করেন, তাঁর নাম হঠাৎই কেন বিতর্কের শিরোনামে? সম্প্রতি ৭৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ্ ছুঁয়েছে অরিজিৎ-এর কন্সার্টের টিকিটের মূল্য। ২০২৩-এ ইকো পার্কে হবে সেই বহু প্রতীক্ষিত শো। ইতিমধ্যেই তিনি ঘোষণা করেছেন ১০০ কোটি টাকার প্রয়োজন তাঁর। বিশ্বজোড়া খ্যাতি যে গায়কের তাঁর টিকিটের মূল্য যে বেশী হবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে জিয়াগঞ্জে সাদামাটা ভাবে জীবন কাটানো বিখ্যাত গায়কের কেন প্রয়োজন এত টাকার? তলিয়ে ভেবে দেখেছেন কী বিষয়টা?
আরও পড়ুনঃ হাওয়া বইবে এপারেও, মুক্তির দিনক্ষণ ঘোষণা
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বিখ্যাত হতে যেমন সময় লাগে না, তেমনই কারোর কুৎসা রটাতেও লাগে অল্পই সময়। তাই রাতারাতি ভিলেন হয়ে গিয়েছিলেন অরিজিৎ। আকাশ ছোঁয়া টিকিটের দাম দেখে অনেকই তাঁকে ভৎর্সনা করেছিলেন। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে বড়ো হওয়া ছেলেটির ভাবনার তল পায়নি কেউ। দুনিয়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন অরিজিৎ। আর সেই স্বপ্নের শুরু জিয়াগঞ্জের মাটি থেকেই। পরিবর্তন আনতে হলে তা নিজের ঘরের কাছ থেকেই শুরু করতে হবে। তাই এখন ১০০ কোটির লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন গায়ক। কী করবেন এই টাকা দিয়ে?

অরিজিৎ সিং জানান, বেসরকারি স্কুলে যেসকল সুযোগ-সুবিধা থাকে তেমনই একটি উন্নতমানের স্কুল গড়তে উদ্যোগী তিনি। এরপর জানাতে পারেন সেই সেলফ সাসটেন্ড স্কুল তৈরির খরচ ১০০ কোটি টাকা। অরিজিৎ আরব সাগরের পারে মুম্বাইয়ের কনসার্ট মঞ্চে গিটার হাতেই বলেন, ‘আমার এই কাজের জন্য দরকার ১০০ কোটি টাকা। কাজ শুরু করবার পর আমি সেটা জানতে পারি। আমি সেই টাকা জোগাড় করা শুরু করেছি। আমি আপনাদের পাশে চাই। তবে আর্থিক ভাবে নয়, ভক্তদের ভালোবাসা চেয়েছেন তিনি। মিউজিক যাঁরা শুনতে আসেন, তাঁদের সকলেরই একটা হৃদয় রয়েছে ফলে তাঁরা গানের মাধ্যমেই এই যাত্রাকে সফল করতে পারেন।
১০০ কোটির জন্য দেশবাসীর কাছে আর্জি অরিজিৎ-এর, টিকিট বিতর্কের মধ্যে লুকিয়ে গায়কের কোন উদ্দেশ্য?

জিয়াগঞ্জের ছেলেমেয়েরা যাতে পিছিয়ে না পরে তার জন্য স্পোকেন ইংলিশের ক্লাসের ব্যবস্থা করেছেন অরিজিৎ, মেয়েদের নার্সিং ট্রেনিং-এর স্কুল খুলেছেন, মেয়েদের আত্মনির্ভর করে তোলবার ক্ষেত্রে কাজ করছে সেই সংস্থা। শুধু তাই নয় মাত্র ৩০ টাকার হোটেল খুলেছেন অরিজিৎ। সেখানে ভরপেট খাবার পাওয়া যায় এই টাকায়। এভাবেই নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মঙ্গলের কাজে ব্যবহার করেছেন তিনি। অরিজিতের মানসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সকলে। আসলে উন্নতির আকাশ ছুঁয়েও শিকরকে না ভোলার নাম অরিজিৎ। ভাবতে অবাক লাগলেও কাজের প্রয়োজন ছাড়া মুম্বইয়ে যান না অরিজিৎ। জিয়াগঞ্জের স্কুলেই পড়াশোনা করছে তাঁর সন্তান, সেখানে নিজের সন্তানকে আনা নেওয়া করেন অরিজিৎ। মাটির মানুষ কীভাবে হতে হয় তাঁর পাঠ শেখাচ্ছেন অরিজিৎ।



