গঙ্গাসাগরে বেড়েই চলেছে মানুষের ঢল। রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। রবিবার রাত থেকে শুরু মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান। বিভিন্ন রাজ্য থেকে দলে দলে মানুষ এসে উপস্থিত হয়েছেন কলকাতায়। বাবুঘাটের ট্রানজিট ক্যাম্পে একটু বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। সব রকম ব্যবস্থাপনা শেষ। যেকোনো রকম পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এরই মধ্যে ঘটে গেল দুর্ঘটনা।



আরও পড়ুন : কেজরিওয়াল হাজিরা এড়ালেও থেমে নেই ED, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে চতুর্থ তলব
গঙ্গাসাগরে আগত তিন সাধুর ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় শোরগোল বাংলায়। বৃহস্পতিবার কাশীপুরে আক্রান্ত হন উত্তরপ্রদেশের বেরিলি থেকে আগত তিন সাধু। অভিযোগ ভাংচুর করা হয় তাদের গাড়ি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গুজবের জেরে ওই তিন সাধু আক্রান্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বিজেপি।আক্রান্ত সাধুর বক্তব্য, “আমরা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। গঙ্গাসাগর যাওয়ার কথা ছিল। কিছু মেয়ে সাইকেলে যাচ্ছিল। ওরা আমাদের ভাষা বুঝতে পারেনি। হঠাৎ করেই দেখি ২০-২৫ জন জড়ো হয়ে গেল, আমাদের মারধর করা শুরু করল।”



শুক্রবার রাতে কাশীপুরে গিয়ে থানা থেকে ওই তিন সাধুকে নিজের বাসভবনে নিয়ে যায় পুরুলিয়ার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় মাহাতো। বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোর বক্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গে আবার পালঘরের মতো ছায়া দেখা দিয়েছে। বাংলায় সাধু সন্তদের তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা মারধর করা শুরু করেছে। আর এদিকে শেখ শাহজাহানের মতো গুন্ডারা রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়।”ঘটনায় ইতিমধ্যেই কাশিপুর থেকে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার এবং ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর।

রবিবার মকর সংক্রান্তি, বাংলায় সাধুদের ওপর অত্যাচার নিয়ে ধিক্কার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
মন্ত্রী বললেন, “এমন বাতাবরণ কেন তৈরি হচ্ছে? তুষ্টিকরণের রাজনীতি এই ধরনের বাতাবরণ তৈরি করছে। রাম জন্মভূমির শিলান্যাসের সময় বাংলায় কার্ফুর মতো পরিস্থিতি তৈরি করে দেওয়া হয়। হিন্দুদের আনন্দে সামিল হতে দেওয়া হয় না। আর এখন সাধুদের মারপিট করে, তাঁদের হত্যার চেষ্টা পর্যন্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে আসছে। রাজ্য সরকার চুপচাপ বসে দেখা ছাড়া আর কিছু করছে না। সংবাদমাধ্যম যখন বিষয়টি তুলে ধরে, তখন গিয়ে তদন্ত করছে।”রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজার দাবি, ‘সাধুদের বিরুদ্ধে তিন তরুণীকে উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল। জনতা তাঁদের ঘিরে ধরে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দু’পক্ষই মামলা করেছে। পুলিশ নিজের কাজ করছে। আর বিজেপি পুরুলিয়ার মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে।’







