বোলপুরের মঞ্চ থেকে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। কয়লা পাচার রুখতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি একদিকে যেমন জেলার পুলিশ সুপারকে কৃতিত্ব দেন, তেমনই রাজ্য পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘নোংরামিতে যুক্ত’ থাকার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি—নিজে এসপি-কে জানানোতেই নাকা চেকিং জোরদার হয়েছে। তবে পাল্টা জবাবে এসপি আমনদীপ স্পষ্ট করেছেন, পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালায়, কারও নির্দেশে নয়।
বুধবার বোলপুরের গীতাঞ্জলি উৎসবে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত। সেখানেই কয়লা পাচার প্রসঙ্গে সরব হন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ঝাড়খণ্ড থেকে রামপুরহাট, মহম্মদবাজার ও সিউড়ি হয়ে রাজ্যে কয়লা ঢুকছিল। গ্রামবাসীদের উদ্যোগে বিষয়টি সামনে আসে। এরপর তিনি নিজে জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপকে জানান। কেষ্টর কথায়, “আমিই এসপি-কে বলার পর নাকা চেকিং করেছে। সব পুলিশ খারাপ নয়। তবে কিছু পুলিশ তো নোংরামিতে যুক্তই।”


‘ভাল’ ও ‘খারাপ’ পুলিশের পার্থক্য টেনে তিনি বলেন, “সব পুলিশ সমান হয় না। যেমন হাতের পাঁচটি আঙুল সমান নয়, তেমনই পুলিশের সকলেও এক নয়।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর মে মাসে বোলপুর থানার তৎকালীন ওসি লিটন হালদারকে ফোনে কুকথা বলার অভিযোগ ওঠে অনুব্রতের বিরুদ্ধে। ভাইরাল অডিয়ো ক্লিপ ঘিরে তীব্র শোরগোলের পর তিনি নিঃশর্তে ক্ষমা চান। যদিও একই সঙ্গে দাবি করেন, কণ্ঠস্বরটি তাঁর নয়—এটি ‘এআই-এর কারসাজি’। সে সময় চিঠিতে লিখেছিলেন, “দিদির পুলিশের কাছে একশো বার ক্ষমা চাইতে পারি। আমি নানা ওষুধ খাই। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনলে মাথা গরম হয়ে যায়।”
বর্তমান মন্তব্য প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ জানান, “আমরা নিয়মিত রেড করি। কয়লা পাচারের খবর পেলেই নয়, সর্বদা সক্রিয় থাকি।” কেষ্টর দাবি নিয়ে তিনি আলাদা করে মন্তব্য করতে চাননি।


রাজ্যের শাসকদলের প্রভাবশালী এই নেতার বক্তব্য আবারও প্রশাসন–রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলল। পুলিশের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে তাঁর এই প্রকাশ্য মন্তব্য কতটা রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



