অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। নতুন সরকারের ঘোষিত এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রত্যাশায় বহু মানুষ ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিতকরণ নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্তমান সুবিধাভোগীদের বড় অংশ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ ও ফর্ম পূরণের কাজে ব্যস্ত। নতুন প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, এবং তা কার্যক্ষেত্রে ডাবল হবে এই আশায় ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে বাংলার মা বোনেদের মধ্যে।
মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার সাধারণ মহিলাদের মাসে ১৫০০ আর তফসিলি জাতি/উপজাতির মহিলাদের মাসে ১৭০০ টাকা দিত। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এই অনুদান সবার ক্ষেত্রেই ৩০০০ টাকা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। আর তাতেই চরম উৎসাহিত বাংলার মহিলারা। সেই কারণেই গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র ফর্ম পূরণ নিয়ে আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।
এদিকে উপভোক্তা তালিকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের সমর্থকরা দাবি করছেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র বৈধ ও যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার পক্ষেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে। ১২ পাতার ফর্ম ফিলাপ নিয়ে বিরোধীরা বিজেপি সরকারকে নিশানা করলেও তাতে আমল দিচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
বিজেপি সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্প থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের খুঁজে খুঁজে বাদ দেবে, এটাই প্রত্যাশা রাজ্য জুড়ে। অনেকে বলছেন, আগে যে ২ কটি ২০ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন তার বেশিরভাগই রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশি। এখন থেকে জেনুইন ভারতের মানুষই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। যদিও এই ধরনের মন্তব্য ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মতামতের পর্যায়ে পড়ে এবং এ বিষয়ে সরকারি স্তরে কোনও পৃথক নির্দেশিকার ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নতুন সরকারের অন্যতম জনমুখী উদ্যোগ হিসেবে উঠে এসেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মহিলা সরাসরি উপকৃত হতে পারেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং উপভোক্তা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশের দিকেই এখন নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের। সেই নির্দেশিকা সামনে এলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে তৈরি হওয়া নানা জল্পনারও অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।



