রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার সরাসরি বিরোধী সুরে সরব হলেন। তাঁর নিশানায় নতুন সরকারের বহুল আলোচিত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে ফারাক তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই ইস্যুতে সরব হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষও।
দলের ভাঙন ও সাংগঠনিক অস্থিরতার আবহে এতদিন তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থানে ছিলেন অভিষেক। তবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এবার তিনি সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্টার শেয়ার করে তিনি লেখেন, “ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি, ভোটের পর শুধুই স্মৃতি।”


অভিষেকের পোস্টে যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে নির্বাচনের আগে প্রচারিত একটি কার্ডে মাসিক ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতির উল্লেখ রয়েছে। সেই পোস্টের মাধ্যমে তৃণমূলের তরফে ইঙ্গিত করা হয়েছে, ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও ভোটের পর বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
একই ইস্যুতে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে বহু মহিলার হাতে একটি সরল আবেদনপত্র তুলে দিয়ে বলা হয়েছিল যে সরকার গঠিত হলে মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এখন নতুন করে ১২ পাতার আবেদনপত্র পূরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।


কুণাল ঘোষের বক্তব্য, একজন আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার কারণ সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট করা উচিত। তাঁর মতে, তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে আবেদনকারীদের মধ্যে কোনও সংশয় না থাকে।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, যদি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কেউ অযোগ্য বা অবৈধ বলে প্রমাণিত হন, তবে তাঁদের বাদ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই কারণে সমস্ত আবেদনকারীকে অতিরিক্ত হয়রানির মুখে পড়তে হবে কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তৃণমূল বিধায়ক।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এখন শুধুমাত্র একটি সামাজিক প্রকল্প নয়, বরং রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে সরকার প্রকল্পের আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়াকে প্রয়োজনীয় বলে ব্যাখ্যা করছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবির তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ সরকার পরিবর্তনের পর এটাই এমন একটি ইস্যু, যেখানে তাঁকে প্রকাশ্যে ও সরাসরি বিরোধী রাজনীতির ভূমিকায় দেখা গেল। ফলে আগামী দিনে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



