কলকাতার সাংস্কৃতিক হৃদয় নন্দন শুক্রবার সকাল থেকেই যেন আবেগে ভারী। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন অনুরাগী, সহকর্মী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। আচমকা দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর খবর এখনও মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। সেই শোকই যেন এদিন ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা নন্দন চত্বরে।
সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নন্দনের সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। পরিচালকের শেষ দর্শনের আশায় হাজির হন বহু সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখও। সকলের চোখেমুখে ছিল শোক এবং প্রিয় নির্মাতাকে হারানোর বেদনা।


পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনীক দত্তের মরদেহ শববাহী গাড়ি থেকে নামানো হয়নি। প্রবল গরমের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নন্দনের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে পরিচালকের একটি বড় প্রতিকৃতি রাখা হয়। ফুলে সাজানো সেই ছবির সামনেই থামে শববাহী গাড়ি।
যাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন, তাঁরা ফুল ও মালা অর্পণ করেন ছবির সামনে। একে একে শ্রদ্ধা জানান অভিনেত্রীলকেট চট্টোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, প্রযোজক ফিরদৌসল হাসান, পাপিয়া অধিকারী-সহ অনেকেই।সহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
শুরু থেকেই গোটা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সামলাতে দেখা যায় অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে। শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেই বিষয়েও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।


বুধবার দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনীক দত্তকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার তাঁর মরদেহ রাখা হয়েছিল ‘পিস ওয়ার্ল্ড’-এ। বিদেশে থাকা মেয়ে ঐশী দত্ত দেশে ফেরার পরই শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলা সিনেমার এক গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্র জগৎ। নন্দনের এদিনের ছবি যেন সেই ভালোবাসারই প্রতিফলন— যেখানে পরিচালক অনীক দত্তকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে একসঙ্গে দাঁড়ালেন সাধারণ দর্শক এবং চলচ্চিত্র জগতের তারকারা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



