টলিউডে আচমকা নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার পরিচালক অনীক দত্তর আকস্মিক মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্তব্ধ হয়ে যায় বাংলা চলচ্চিত্র মহল। প্রথমে জানা যায়, গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট। আর সেই সূত্র ধরেই এখন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।
পরিচালকের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পরই এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং প্রয়াত পরিচালকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধাও জানান। পরে এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্রী অনীক দত্তের অকাল প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। বাংলা সিনেমার প্রতি তাঁর অবদান অমূল্য।”


শুভেন্দু আরও জানান, অনীক দত্তর রহস্যমৃত্যুর তদন্তে তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে কলকাতা পুলিশের উপর। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কলকাতা পুলিশ তদন্ত করে মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।” নিজের পোস্টে কলকাতা পুলিশকেও ট্যাগ করেছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে লেখা রয়েছে— “এই ঘটনার জন্য কেউ দায়ী নয়।” তবে ওই চিঠির হাতের লেখা আদৌ পরিচালকের কি না, তা যাচাই করতে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই একাধিক দিক খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন।
অনীক দত্তর মৃত্যুর খবর ঘিরে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কারণ, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও যাঁরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁদের দাবি পরিচালকের আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি। ফলে আচমকা এই মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।


টলিউড সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন অনীক দত্ত। ফুসফুস ও স্নায়ুর জটিলতা ছিল বলেও জানা যাচ্ছে। এমনকি অতীতে বাড়ির মধ্যে একাধিকবার পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। পাশাপাশি মানসিক অবসাদ তাঁকে গ্রাস করেছিল কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।
এদিকে পরিচালকের শেষকৃত্যের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ জানিয়েছেন, প্রথমে অনীক দত্তর মরদেহ নন্দনে রাখা হবে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। পরে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
এখন সকলের নজর ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে। কারণ, সেই রিপোর্টই অনীক দত্তর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে বহু জল্পনার অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



