শনিবার সকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলা। ভেটলাপালেম গ্রামের একটি আতসবাজি কারখানায় আকস্মিক বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যায় গোটা কারখানা, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও ধ্বংসস্তূপ।
স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা যায়। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে বহু শ্রমিকের দেহ ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।


এখনও আটকে থাকার আশঙ্কা
উদ্ধারকারী দলের অনুমান, বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভিতরে আরও কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কী ভাবে ঘটল বিস্ফোরণ?
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কয়েকজন মহিলা শ্রমিক বাজি তৈরির রাসায়নিক মিশ্রণ প্রস্তুত করছিলেন। সেই সময় আচমকাই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে আগুন বা বিস্ফোরণ শুরু হয়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক
আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। গুরুতর দগ্ধ হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


প্রশাসনের তৎপরতা
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এলাকায় নিরাপত্তা ঘিরে ফেলা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী N. Chandrababu Naidu বর্তমানে জেলার বাইরে সফরে থাকলেও প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঘটনার পর আতসবাজি কারখানাগুলির নিরাপত্তা বিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল কি না, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও রাসায়নিক সংরক্ষণের নিয়ম মানা হয়েছিল কি না— সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর দুর্ঘটনার প্রকৃত ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হতে পারে।







