বঙ্গবিভূষণ পেয়েই বিস্ফোরক অনন্ত মহারাজ! ‘রাজবংশীদের জন্য বিজেপি কিছু করেনি’ মন্তব্যে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য

বঙ্গবিভূষণ সম্মান পাওয়ার পর বিজেপির বিরুদ্ধে সরব অনন্ত মহারাজ। রাজবংশী সমাজের জন্য কাজ না করার অভিযোগে ভোটের আগে চাপে গেরুয়া শিবির।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোড়ন। রাজ্য সরকারের বঙ্গবিভূষণ সম্মান পাওয়ার পরই নিজ দল বিজেপির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। কোচবিহার ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বিজেপি কোনও উল্লেখযোগ্য কাজ করেনি বলে তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনন্ত মহারাজের হাতে বঙ্গবিভূষণ সম্মান তুলে দেন। রাজবংশী সমাজের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করে চলেছেন এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

এদিন অনন্ত মহারাজ মঞ্চে একটি কবিতা পাঠ করলেও রাজনৈতিক মন্তব্য করেননি। তবে অনুষ্ঠান শেষে বাইরে বেরিয়েই সাংবাদিকদের সামনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “কোচবিহার ও রাজবংশীদের জন্য বিজেপি কিছুই করেনি।” এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এদিন বঙ্গবিভূষণ সম্মান পান শিবাজী চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতা চক্রবর্তী, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, গণেশচন্দ্র হালুই, লোপামুদ্রা মিত্র, বাবুল সুপ্রিয়, ইমন চক্রবর্তী এবং শ্রীজাত। পাশাপাশি আইএএস কর্মকর্তা বিবেক কুমারকে দেওয়া হয় বঙ্গভূষণ সম্মান।

অনন্ত মহারাজের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কূটনৈতিক সুরে বলেন, “অনন্ত মহারাজ আমার সহকর্মী ও সতীর্থ। তিনি সম্মানিত হয়েছেন, এতে আমি আনন্দিত।” তবে বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর মন্তব্য নিয়ে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অগস্টে বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন অনন্ত মহারাজ। সাম্প্রতিক সময়ে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব নিয়ে জল্পনা চলছিলই। বঙ্গবিভূষণ পাওয়ার পর তাঁর এই মন্তব্য ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এখন নজর কোচবিহার ও রাজবংশী ভোটব্যাঙ্কের দিকে—অনন্ত মহারাজের অবস্থান ভবিষ্যৎ নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর