ক্ষমতায় আসেনি BJP, মমতার দেওয়া চাকরি নিতে প্রস্তুত আনন্দ বর্মনের পরিবার

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ক্ষমতায় আসেনি BJP,  মমতা সরকারের সাহায্য এবং চাকরি নিতে প্রস্তুত শীতলকুচিতে নিহত আনন্দ বর্মনের পরিবার। ভোট চতুর্থীতে শিতলকুচিতে প্রথম গুলি চলে আনন্দর ওপর। প্রথম বার ভোট দিতে গিয়ে প্রাণ হারায় সে। তার পরেই ১২৬ নং বুথে ফের চলে গুলি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ গিয়েছিলো আরও ৪ জনের। সব পরিবারকে চাকরি আর অর্থ সাহায্য দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুনঃ বিশ সাল বাদের জয়ের শপথেও মৌন-মুকুল! শুধু কথা বললেন সুব্রত বক্সির সঙ্গে

শীতলকুচির দাগ এখন স্পষ্ট সকলের মনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছিল ৭২ ঘন্টা কোচবিহারে যেতে পারবেন না কোন নেতা মন্ত্রী। সেই মতো চতুর্থ দিনে নিষেধাজ্ঞা ওঠার পরেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন মমতা। নির্বাচন কালে কোন প্রকার সরকারি সাহায্যের কথা ঘোষণা করতে পারেন না বলে বলেছিলেন সবরকম ভাবে পাশে থাকবেন তিনি। ক্ষমতায় ফিরেই জানানো হয়েছে অর্থ সাহায্য এবং চাকরি দেনে রাজ্য সরকার।

তবে প্রথমে তৃণ্মূল সরকারের সাহায্য নিতে চায়নি মৃত আনন্দ বর্মনের পরিবার। বিজেপি সমর্থিত এই পরিবার সাফ জানিয়েছিল রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তবেই তাঁরা সাহায্য নেবেন। বৃহস্পতিবার শীতলকুচির তৃণমূল নেতা পার্থ প্রতিম রায় ডেকে পাঠান আনন্দর পরিবারকে। আজ আনন্দর দাদা মামা এবং মা আসেন দেখা করতে , তাঁদের নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন পার্থপ্রতিম। আনন্দর দাদা গোবিন্দকে চাকরি দিচ্ছে রাজ্য। সব পরিবারকে চাক্রির সঙ্গে নগদ ২ লক্ষ টাকাও দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

আনন্দের মা বাসন্তী বর্মন বলেছেন, ‘‘চাকরি নেব। ঘর করব। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দোষীদের শাস্তি চাইব।’’ আনন্দের দাদা গোবিন্দ জানান, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী সবার মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি যদি ১০টা পরিবারকে চাকরি দেন, নিতে বাধা নেই। ভাইকে যারা মেরেছে, সেই দোষীদের শাস্তি হোক।’ প্রশ্ন উঠেছিল তাহলে আগে সাহায্য নিতে অস্বীকার কেনো করেছিলো  পরিবার? সেটা কি তবে বিজেপির ভয়ে ছিলো? সব প্রশ্ন থামিয়ে দিয়েছেন পার্থপ্রতিম রায়। তাঁর মতে পুরোনো প্রসঙ্গ তুলে লাভ নেই। এখন তাঁরা যা চাইছেন তাই হবে।

ক্ষমতায় আসেনি BJP,  তবে  এই মত পরিবর্তনে কোন ক্ষোভ দেখাননি শীতলকুচির বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা বিজেপি-র সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে পরিবারটির। চিরকালের জন্য ছেলে চলে গিয়েছে। তার পরিবর্তে যত অর্থই দেওয়া হোক না কেন, কোনও দিন ক্ষতিপূরণ হবে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে বলা যায়, চাকরি পেলে দারিদ্র থেকে কিছুটা রেহাই পাবে পরিবারটি। আনন্দের হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি আমরা।’’  আনন্দের পাশাপাশি মনিরুজ্জামানের ভাই পিঙ্কু রহমান, সামিউল মিয়াঁর ভাই শহিদুল হক, সামিদুল মিয়াঁর স্ত্রী হাসিমা বিবি এবং নুর আলমের স্ত্রী জোবেদা বিবি চাকরি পাচ্ছেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত