মিশন ২৬’-এর প্রস্তুতি জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র পর এবার পশ্চিমবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ৩০ ডিসেম্বর কলকাতায় পৌঁছবেন তিনি। SIR আবহে এই প্রথম রাজ্যে পা রাখতে চলেছেন অমিত শাহ। সফরের মূল উদ্দেশ্য— বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান খতিয়ে দেখা এবং ভোট কৌশল চূড়ান্ত করা।
সূত্রের খবর, কলকাতায় এসে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আপাতত ১৬৫টি বিধানসভা আসনে জয়ের রূপরেখা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তার থেকেও বড় লক্ষ্য— রাজ্যের প্রতিটি বুথে বিজেপির এজেন্ট বসানো। দলীয় সূত্রের দাবি, এই লক্ষ্য পূরণ করাকেই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বিজেপির অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ আসনে এখনও বুথ স্তরে পর্যাপ্ত এজেন্টের ঘাটতি রয়েছে। দিনরাত এক করে বিজেপির রাজ্য নেতারা বুথভিত্তিক রিপোর্ট তৈরি করে দিল্লিতে পাঠালেও বহু জায়গায় সংগঠন এখনও দুর্বল। সেই পরিস্থিতিতে অমিত শাহের নির্দেশ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে বঙ্গ বিজেপি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করারও কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। দলীয় সূত্র মনে করাচ্ছে, গত মাসে বিহারের জয়ের পর এক নৈশভোজে বিজেপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের জন্য তৈরি থাকার বার্তা দিয়েছিলেন অমিত শাহ। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল— সবসময় ‘ফাইটিং মোডে’ থাকতে হবে, যে কোনও সময় যে কোনও জায়গায় দায়িত্ব পড়তে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, SIR-এর পর প্রথম বিধানসভা ভোট হয়েছিল বিহারে। সেখানে নজরকাড়া ফল করেছে বিজেপি। গত এক দশকের মধ্যে এই প্রথম আসনের নিরিখে বিহারে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে গেরুয়া শিবির। ফল ঘোষণার দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুঝিয়ে দেন, বিহারের পর তাঁদের পরবর্তী বড় লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, বিহারের জয় কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের ভাই-বোনেদের আশ্বস্ত করছি, বিজেপি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলবে।”
অন্যদিকে, বিজেপির এই আগ্রাসী প্রস্তুতির বিরুদ্ধে আগেই সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। SIR প্রসঙ্গে অমিত শাহকে নিশানা করে ‘দুর্যোগের বার্তা’, ‘দুরভিসন্ধি’, ‘দুর্যোধন’, ‘দুঃশাসন’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেন তিনি। একই সঙ্গে আশ্বাস দেন, “বাংলায় NRC বা ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না।”
এর পাল্টা বিজেপিও আক্রমণ শানিয়েছে। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ‘বাংলাদেশি মুসলমান’ ও ‘রোহিঙ্গা’ প্রসঙ্গ তুলে শাসকদলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিহারের সাফল্যের পর অমিত শাহের এই সফর বঙ্গ বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরেই স্পষ্ট হয়ে যাবে— বুথ স্তরের দুর্বলতা কাটিয়ে বিজেপি কতটা আগ্রাসী কৌশলে এগোতে চাইছে।



