নজরবন্দি ব্যুরোঃ এখানে না বলে ‘জয় শ্রীরাম’ কি পাকিস্তানে গিয়ে বলবেন? এভাবেই রাজ্যবাসীর মন জয় করে নিতে চাইলেন অমিত শাহ। বিজেপির সভা মানেই জয় শ্রীরাম স্লোগান এটা বলাই বাহুল্য। রাজ্যে বিজেপি যত বেড়েছে ততই বেড়েছে জয় শ্রীরামের দাপট। কদিন আগেই শুভেন্দু অধীকারী বলেছিলেন তাঁদের লড়াই ৭০ শতাংশ(হিন্দু) কে একজোট করে জেতার। ৩০ শতাংশ(মুসলিম) তৃণমূলের ফিযড ডিপোজিট। আর এবার সেই রামকেই পাথেয় করে হুঙ্কার দিলেন অমিত শাহ।
আরও পড়ুনঃ ‘পলিটিক্যাল এমবারাসমেন্ট’এর উত্তর! শোভন-বৈশাখীর বিরুদ্ধে দেবশ্রীর সাক্ষী রত্না, পাশে কুণাল


আজ কোচবিহাতের সভায় দেখা গেল অন্য অমিত কে। তিনি সাধারনত নিচু স্বরে বকৃতা করেন, কিন্তু আজ অমিত কে দেখা গেল কখনও গলা নামালেন কখনও ওঠালেন। উচ্চস্বরে বলতে গিয়ে কয়েকবার কেশেও ফেলেন তিনি। এদিন কোচবিহারে অমিত শাহ বলেন, ‘‘বাংলার ভোট এ বার ঐতিহাসিক হতে চলেছে। মমতাদিদির দাঙ্গাবাজদের সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের দলের কর্মীরা লড়বেন এবং জিতবেন।’’ তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘‘কোই মাই-কা-লাল কা হিম্মত নহি হ্যায় কে ভোট কো প্রভাবিত করেঁ!’’
সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাহ বলেন, ‘‘মোদীজি তাঁর সব কা সাথ, সব কা বিকাশ— এই মন্ত্রে সারা দেশের উন্নয়ন করছেন। সব সমাজ, সব সম্প্রদায়ের কথা মাথায় রেখে নানা উন্নয়নমুখী প্রকল্প তৈরি করছেন। ১০ বছর মমতাদিদিকে দিয়েছেন। এবার পাঁচটা বছর মোদী’জিকে দিন। কথা দিচ্ছি, পাঁচ বছরের মধ্যে সোনার বাংলা বানিয়ে দেখাব।’’ তাঁর কথায়, ‘‘মমতাদিদি একজন বিফল মুখ্যমন্ত্রী। সময় এসেছে তাঁকে বদলে দেওয়ার। আপনারা এমন সরকার বাংলায় বানাবেন না, যারা সারাক্ষণ কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ঝগড়া করে! মোদী’জির হাতে বাংলাকে তুলে দিন।’’
এদিন অনুপ্রবেশ নিয়ে শাহ বলেন, ‘‘বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মানুষ তো দূর, পায়রাও অনুপ্রবেশ করতে পারবে না! এখানে দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজোর অনুমতি পাওয়া যায় না। তা হলে কি পুজো করতে আদালতে যেতে হবে? মমতা দিদি, এটা হিন্দুস্থান, এখানে দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজো, রামনবমী সবই হবে।’’


জয় শ্রীরাম স্লোগানে ভিক্টোরিয়ায় মমতার প্রতীবাদ প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘এখানে এমন অবস্থা, যেন ‘জয় শ্রীরাম’ বলা অপরাধ। এখানে ‘জয় শ্রীরাম’ বলবেন না তো কি পাকিস্তানে গিয়ে বলবেন!’’ তারপর, ‘‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, ভোট শেষ হতে হতে মমতাদিদিও ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে শুরু করবেন।’’







