৫ বছরের মধ্যে ‘অনুপ্রবেশকারী মুক্ত ভারত’-এর লক্ষ্য ঘোষণা অমিত শাহর

অসমে সরকারি অনুষ্ঠানে অমিত শাহর কড়া বার্তা—SIR প্রক্রিয়ায় শনাক্ত অনুপ্রবেশকারীদের পাঁচ বছরের মধ্যে দেশছাড়া করার লক্ষ্যের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ঘিরে যখন একাধিক রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক সেই সময়েই কঠোর বার্তা দিল কেন্দ্র। অসম সফরে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করলেন—আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তথাকথিত অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বহিষ্কার করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে, বিশেষ করে বাংলাসহ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে।

SIR বা বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত তালিকাগুলিতে ৮ থেকে ১২ শতাংশ ভোটার বাদ যাওয়ার দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

শনিবার অসম পুলিশের ১০ নম্বর ব্যাটালিয়নের নতুন ক্যাম্পাসের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি জানান, যে জমি আগে অনুপ্রবেশকারীদের দখলে ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই জমি দখলমুক্ত করেই তৈরি হচ্ছে নতুন পুলিশ ক্যাম্পাস। এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, শুধু জমি থেকে উচ্ছেদ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না—দেশ থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের সরাতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করার কাজ এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, “আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।” বিজেপি পুনরায় অসমে ক্ষমতায় এলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে বলেও দাবি করেন তিনি।

একই মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের আরেক লক্ষ্যও তুলে ধরেন শাহ। তিনি বলেন, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদ নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁর দাবি, মাওবাদ দমনে সাফল্য মিললে অনুপ্রবেশ সমস্যা মোকাবিলাও সম্ভব হবে।

শাহর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্য সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এই অভিযান সফল হবে না। ফলে আসন্ন অসম নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইস্যু যে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত