ভোটের আগে নাগরিকত্ব ও শরণার্থী ইস্যুকে সামনে রেখে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান আরও উত্তপ্ত। তফসিলি অধ্যুষিত মথুরাপুরের সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট বার্তা দিলেন—“দেশে বিজেপি সরকার থাকা পর্যন্ত একজনও হিন্দু শরণার্থীর নাগরিকত্ব যাবে না।” ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে উদ্বেগের আবহে তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ঘিরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে। সেই প্রেক্ষিতেই শাহের বক্তব্য, কেন্দ্র সরকার হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
‘পরিবর্তন যাত্রা’র লক্ষ্য ব্যাখ্যা
বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মথুরাপুরে সভা করেন শাহ। তিনি জানান, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়েই এই যাত্রা হবে। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং “অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা” গড়ে তোলা।
তৃণমূলকে আক্রমণ
সভা থেকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরে রাজ্যের শাসক দলকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নাম না করেই তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি এবং রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।
সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে প্রতিশ্রুতি
রাজ্য সরকারি কর্মীদের উদ্দেশেও বড় ঘোষণা করেন শাহ। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ইতিমধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাচ্ছেন এবং অষ্টম বেতন কমিশনের কথাও সামনে এসেছে—কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মীরা এখনও বঞ্চিত।
ভোটের আগে রাজনৈতিক বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তফসিলি ও মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করেই বিজেপির প্রচারে নাগরিকত্ব ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে। অন্যদিকে ভোটার তালিকা বিতর্ক ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।



