বাংলার রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি করা ‘১০০০ কোটি ডিল’ ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তৃণমূলের প্রকাশ করা ওই ভিডিওর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এই ধরনের ভিডিও তৃণমূল কংগ্রেস অনেক বানাতে পারে”—ফলে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল ভোটের আগে।
শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অমিত শাহ। সেখানেই হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে প্রকাশিত ওই ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি তৃণমূলকেই কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। শাহ স্পষ্ট জানান, বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুন কবীর বা তাঁর দলের কোনও সম্পর্ক নেই।
সম্প্রতি একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে দাবি করা হয়—হুমায়ুন কবীর বিজেপির সঙ্গে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ‘ডিল’-এর কথা বলছেন। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। এই ভিডিওকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলে।
তবে শাহের বক্তব্যে সেই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের ভিডিও তৈরি করা তৃণমূলের পক্ষে অসম্ভব নয়। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যারা বাবরি মসজিদ নির্মাণের পক্ষে, তাদের সমর্থন করার চেয়ে আরও ২০ বছর বিরোধীতে থাকা ভালো”—এর মাধ্যমে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে শাহ একদিকে যেমন ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছেন, অন্যদিকে বিজেপির ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা করেছেন। কারণ, ভোটের মুখে এই ধরনের অভিযোগ দলীয় ইমেজে প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখযোগ্য, ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর হুমায়ুন কবীর নিজেও সেটিকে ‘ভুয়ো’ বলে দাবি করেছিলেন এবং এর জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করেন। শাহের বক্তব্য সেই দাবির সঙ্গেই আংশিক সুর মেলাচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
সব মিলিয়ে, একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল, যা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।



