নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভরা সভায় অমিত শাহকে ‘গো ব্যাক’ বলে, কালো পতাকা দেখিয়ে কার্যত স্পট লাইট ধরেনেন কয়েকজন মহিলা। কার্যত অমিত শাহের চোখে চোখ রেখে কালো পতাকা উড়িয়ে হুঙ্কার দেন তাঁরা। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে সভা মাঠে পাঁচ মহিলার বিক্ষোভ। তাঁদের মধ্যে একজন আবার বাঁশের ব্যারিকেডে উঠে পড়লেন। যার জন্য অমিত শাহকেও মাঝপথে কয়েক মুহূর্তের জন্য বক্তৃতা বন্ধ রাখতে হয়। হকচকিয়ে যান সবাই, শাহ ঘটনার আকস্মিকটা কাটিয়ে ওঠার আগেই পদ্ম সমর্থক কে দেখা যায় মহিলার শাড়ি ধরে টেনে নামাতে।
আরও পড়ুনঃ বাংলা আজ যা করে কেন্দ্র তা ভাবে পরে! প্রতি পয়েন্টে শাহ্’কে জবাব ব্রাত্যর
অবিন্যস্ত পোশাকেও নিজের দাবি সোচ্চারে জানাতে থাকে মহিলা। পরে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কাকদ্বীপ থানায় নিয়ে যায় ওই পাঁচ মহিলাকে। কিন্তু কে তিনি বা তাঁর সাথে যারা ছিল তাঁরা কারা? গতকালের ঘটনার পর নজরবন্দি পৌঁছানোর চেষ্টা করে সত্যের মূলে। দেখা যায় মহিলারা আসলে সবাই শিক্ষিকা। সবাই শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের সদস্যা।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মইদুল ইসলাম জানালেন ওই পাঁচ মহিলার পরিচয়। তাঁরা হলেন অনিমা নাথ, ছবি চাকী দাস হাজরা, মিঠু দাস, মিলি বিশ্বাস, ফতিমা কানিজ। প্রত্যেকেই পেশায় শিক্ষক। গত চার মাস ধরে একের পর এক আন্দোলন চালাচ্ছে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ। মইদুল জানিয়েছেন, গত ৫ জানুয়ারি এনআরসি প্রত্যাহারের দাবিতে বিজেপি অফিস ঘেরাও করেন তাঁরা। ২৭ জানুয়ারি বিধানসভা অভিযান এবং তারপরে ৪ ফেব্রুয়ারি গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর সভাতেও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
জাতীয় শিক্ষানীতি বদলের দাবি ছাড়াও এই মঞ্চ একাধিক সামাজিক ইস্যুতে আন্দোলন চালাচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম চুক্তি ভিত্তিক এবং অস্থায়ী শিক্ষকদের কাজের সুরক্ষা। শাহের সভায় বিক্ষোভরত মহিলার ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। পেশায় বৃত্তিমূলক শিক্ষিকা অনিমা নাথ হুগলির ব্যান্ডেলের বাসিন্দা। কাকদ্বীপ থানায় তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এই অভিযোগে সংগঠনের তরফে FIR করা হয়েছে। দাবি না মেটানো পর্যন্ত সব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে প্রতিবাদ আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেই জানিয়েছে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ।



