নজরবন্দি ব্যুরোঃ ক্লিন মন্ত্রীসভা গঠন করতে চাইছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কারণে ব্যাপক ড্যামেজ হয়েছে তৃণমূলের। দলের প্রাক্তন মহাসচিবের গ্রেফতারি আর একই সাথে সেই হেভিওয়েট মন্ত্রীর বান্ধবীর কাছ থেকে নগদ ৫০ কোটি টাকা এবং ৬ কোটির সোনা উদ্ধার হওয়াতে বিপাকে পড়ে তৃণমূল। মাত্র ১৫ মিনিটের বৈঠকে পার্থকে মন্ত্রীসভা থেকে বের করে দিয়েছেন তৃণমূল।
আরও পড়ুনঃ কংগ্রেস বিধায়কের গাড়িতে এত টাকা কার? ED তদন্ত করুক, দাবি তৃণমূলের!
মন্ত্রিত্ব তো গিয়েইছে। দল থেকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁকে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে যাবতীয় দলীয় পদ। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার! পার্থ কারও নাম করেননি। ফলে তিনি ‘ষড়যন্ত্র’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তার স্পষ্ট নয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় যেটা বললেন পার্থ তা ঘুরিয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছে অন্যদিকে। বেরনোর সময় হুইল চেয়ারে বসা পার্থ বলেন, ‘‘যারা ষড়যন্ত্র করছে, তারা জানতে পারবে।’’

এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ মন্ত্রীসভা গঠনে জোর দিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি রাজ্যের মন্ত্রীসভায় ব্যাপক রদবদল করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য মন্ত্রিসভায় এখন মুখ্যমন্ত্রী-সহ মোট ৪০ জন মন্ত্রী আছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে ধরলে, পূর্ণমন্ত্রী ২০ জন, ১০ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং ৯ জন, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে। এই মন্ত্রীদের সবাইকে ইস্তফা দিতে বলতে পারেন মমতা।

সূত্রের দাবি, বিভিন্ন মন্ত্রীর দফতর বদলাতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। নিশ্চিত ভাবেই বাদ পড়তে চলেছেন প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী। খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য কেউ কেউ মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন। মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে বেশ কিছু নতুন মুখ। সোমবার নবান্নে বৈঠকের পরে ব্যাপক রদবদল হতে পারে রাজ্য মন্ত্রিসভায়। কিন্তু একসাথে সবার ইস্তফা? এটাকি সম্ভব? রাজনৈতিক কারবারিরা বলছেন এটা সম্ভব। তাঁরা উদাহরন দিচ্ছেন কামরাজ-প্ল্যানের।
রাজ্য মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল, সমস্ত মন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে বলতে পারেন মমতা!

কি এই কামরাজ প্ল্যান? ১৯৬৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে মাদ্রাজের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কামরাজ প্রস্তাব দেন সংগঠনের স্বার্থে দলের সমস্ত সিনিয়র নেতা যাতে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দলের কাজ করেন। প্রস্তাব মেনে লালবাহাদুর শাস্ত্রী-সহ ৬ হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং কামরাজ-সহ ৬ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা পদত্যাগ করে সংগঠনের হাল ধরেন।








