মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। বারামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যুর খবরে মর্মাহত গোটা দেশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে একই সঙ্গে সঠিক ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
বুধবার সকালে বারামতীতে চার্টার্ড বিমানের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অজিত পওয়ার। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই দুর্ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি বলেন, এত বড় একটি বিমান দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। পাশাপাশি শরদ পওয়ার-সহ গোটা পওয়ার পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী।


শোকবার্তা জানাতে এগিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-ও। দুর্ঘটনার পর তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গেও আলোচনা হয় ফডণবীসের। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অজিত পওয়ারের চার্টার্ড বিমানটি ভেঙে পড়ে। আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানে আগুন ধরে যায়। জেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারের উদ্দেশ্যে মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন মহারাষ্ট্রের ‘মহাজুটি’ সরকারের অন্যতম শরিক অজিত পওয়ার। তাঁর সঙ্গে বিমানে ছিলেন দু’জন নিরাপত্তারক্ষী, পাইলট এবং ফার্স্ট অফিসার।
ভারতের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সকলেরই মৃত্যু হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি এক্স পোস্টে অজিত পওয়ারের রাজনৈতিক জীবন ও প্রশাসনিক দক্ষতার কথা স্মরণ করেন। তাঁর মতে, সমাজের তৃণমূল স্তরের সঙ্গে অজিতের দৃঢ় যোগাযোগ ছিল এবং মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় তিনি সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। মোদী লেখেন, “প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর বোধগম্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। গরিব ও নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা সকলের চোখে পড়ার মতো।” দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যদের পরিবারকেও সমবেদনা জানান তিনি।
রাজ্যসভার সাংসদ তথা শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) নেতা সঞ্জয় রাউত অজিত পওয়ারের মৃত্যুকে মহারাষ্ট্রের রাজনীতির জন্য “একটি কালো দিন” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, অজিত ছাড়া মহারাষ্ট্রের রাজনীতি অপূর্ণ।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শুরু হয়েছে। বারামতী বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শিবাজি তওয়ারে জানিয়েছেন, অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ের একেবারে ধারে চলে গিয়েছিল। তার পরেই সেটি ভেঙে পড়ে এবং টুকরো টুকরো হয়ে আগুন ধরে যায়।







