নজরবন্দি ব্যুরোঃ ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর ক্ষতয় প্রলেপ পরা শুরু হয়েছিল। দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ২ সপ্তাহের বেশী সময়। কিন্তু হঠাতই যেন আবার সব ওলট পালট। মায়ের মনে এখনও দগদগে মেয়ের স্মৃতি। এর মধ্যেই ডাক্তারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন সদ্য কন্যাহারা ঐন্দ্রিলার মা। ঐন্দ্রিলা স্মরণে এক অনুষ্ঠানে এসে তিনি জানান, মেয়ের জন্য কোন স্মরণসভা হোক তা তিনি মন থেকে চাননি। কিন্তু শেষমেশ এই দিনটা দেখতে হল তাঁকে। দেখতে হল শুধুমাত্র এক চিকিৎসকের জন্য। ‘ডাক্তার মানে সে কি মানুষ নয়?’ কী বললেন তিনি?
আরও পড়ুনঃ মদন মিত্রের বাহুসংলগ্ন পাখি, জন্মদিনের বিশেষ মুহূর্ত ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়
ঐন্দ্রিলার মা বলেন, “আমার ঐন্দ্রিলা বরাবরই জীবনীশক্তিতে পরিপূর্ণ। এত কষ্ট পেয়েছে। দু’বার করে ক্যানসার হয়েছে। কোনওদিন ওকে কাঁদতে দেখিনি”। এরপর তিনি আরও বলেন, “আমার পাশে শোয়া ছিল। হঠাৎ হাত নড়ল না। পা নড়ল না। দশ মিনিটের মধ্যে কী যে হয়ে গেল।” সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। ওটিও হয়। সেই ওটিতে সফলতাও এসেছিল। তাঁর মায়ের কথায়, “জ্ঞানও ফিরেছিল। কিন্তু তার পরেই কোমায় চলে গিয়েছিল।”

এর পরেই বিস্ফোরক ঐন্দ্রিলার মা। সরাসরি আঙুল তুললেন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ চিকিৎসা’ অর্থাৎ অস্ত্রোপচার পরবর্তী চিকিৎসার উপর। তিনি যোগ করেন, “ঐন্দ্রিলার জন্য আরও কিছু করা যেত। কিন্তু সেটা করা যায়নি। এক-দুজন চিকিৎসকের ইগোর লড়াই চলছিল। ডাক্তার মল্লিক যিনি অপারেশন করেছিলেন তিনি অমায়িক মানুষ। উনি সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন। শুধু একজন করেনি। সেটা কিন্তু আমরা ভুলব না। সরাসরি অভিযোগ আনেন চিকিৎসক পিয়া ঘোষের উপর। তাঁর অভিযোগ ডাক্তার পিয়ার ইগোর কারণেই ঐন্দ্রিলা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। শিখাদেবী বলেন এম আর আই করতে অধিক সময় নিয়ে আমার মেয়েকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়াছে। ওর শরীর ঐ ধকল নিতে পারেনি। বড় মেয়ে ডাক্তার হলেও তাঁর কথা ঐ চিকিৎসক শোনেননি বলেও জানান তিনি।
ডাক্তার মানে সে কি মানুষ নয়? ঐন্দ্রিলার মৃত্যুতে বিস্ফোরক ‘মা’ শিখা

এদিন তিনি সব্যসাচী সম্বন্ধেও বলেন, যে সেদিন থেকে সব্যসাচীও মানসিক ভাবে মুষড়ে পড়েছে। একেবারেই চুপ করে আছে। ও ওর জগত নিয়ে আছে। ঐন্দ্রিলার মায়ের সাক্ষাতকারের পর স্বাভাবিক ভাবেই ঐন্দ্রিলার স্মৃতি আবারও উসকে উঠছে। লড়াকু মেয়ে ঐন্দ্রিলার মৃত্যুতে কেঁদেছে সারা বাংলা।



