Aindrila Sharma: শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ঐন্দ্রিলা ফিরছে, তাহলে মিরাকল হয়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ঐন্দ্রিলা ফিরছে, মধ্যরাতের একটা আপডেটে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। বিগত প্রায় ১৮ দিন ধরে যে খবরটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে, তা হল ‘ঐন্দ্রিলা দ্য ফাইটার’। আগের দু’বার ক্যান্সারকে পরাস্ত করতে পারলেও এবারে যেন একটু বেশিই দোলাচলে রয়েছে ঐন্দ্রিলা। একের পর এক অপারেশন, ট্রাকিওস্ট্রমি আর রক্তচাপ ওঠানামা ও ভেন্টিলেশনের উৎকন্ঠার পর আবারও যেন একমুঠো আশ্বাস ছড়িয়ে পড়ল মধ্যরাতে।

আরও পড়ুনঃ ক্রমশ অসাড় হয়ে যাচ্ছে ঐন্দ্রিলার দেহ, অবস্থা আরও সংকটজনক

ঐন্দ্রিলার বিশেষ বন্ধু সব্যসাচী টেলিভিশন মাধ্যম থেকে জানালেন, ‘ঐন্দ্রিলা ফিরছে’। হয়তো বিপদ কাটেনি। তবে মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ে পাল্লা ভারি জীবনের দিকে। কী অবস্থা ঐন্দ্রিলার? সব্যসাচী অসংখ্য সাধারণ মানুষের প্রার্থনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছেন, “ঠিক রাত আটটায় যখন আমি বিমর্ষমুখে নিচে দাঁড়িয়ে, হঠাৎ হাত নড়ে ওঠে ঐন্দ্রিলার। খবর পেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখি হার্টরেট এক লাফে ৯১, রক্তচাপ বেড়ে ১৩০/৮০, শরীর ক্রমশ গরম হচ্ছে। কে বলে মিরাকেল হয় না? কে বলে ও চলে গেছে? এক প্রকার অনন্ত শূন্য থেকে এক ধাক্কায় ছিটকে ফিরে এলো মেয়েটা। গেছে বললেই ও যাবে না কি, যেতে দিলে তো যাবে।”

শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ঐন্দ্রিলা ফিরছে, তাহলে মিরাকল হয়।
শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ঐন্দ্রিলা ফিরছে, তাহলে মিরাকল হয়।

ক্যান্সার ও ব্রেন স্ট্রোক দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে অসম লড়াইতে নেমে আবারও প্রকৃত যোদ্ধার মতোই রনভঙ্গ দেয়নি ঐন্দ্রিলা। কোন ঐন্দ্রজালিক মহিমাতেই সে এখন, “এই মুহূর্তে একপ্রকার সাপোর্ট ছাড়াই আছে, এমন কি ভেন্টিলেশন থেকেও বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।” সব্যসাচী জানিয়েছেন আগে ক্লিনিক্যালি সুস্থ হোক, নিউরোর কথা পরে ভাববেন। তিনি আরও জানিয়েছেন সমাজ মাধ্যমে তাদের প্রেম-ভালোবাসার প্রতি যে অতিসদয় হয়ে পড়ছে মানুষ। তা অতিরিক্ত কিছু নয়। বাবা-মা থেকে নিকটজন প্রত্যেকের প্রতি এই সহমর্মিতা বোধ থাকা উচিত।

শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ঐন্দ্রিলা ফিরছে, তাহলে মিরাকল হয়।
শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ঐন্দ্রিলা ফিরছে, তাহলে মিরাকল হয়।

ঐন্দ্রিলা-সব্যসাচী কোন আইকনিক প্রেমিক প্রেমিকা নন। তারাও অতি সাধারণ। সব্যসাচী বলেছেন, একটা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ চেষ্টা করে তার কাছের মানুষের পাশে থাকতে, বিপদে পড়লে খড়কুটো অবধি আঁকড়ে ধরতে। সেটাই তো এতদিন স্বাভাবিক বলে জেনে এসেছি। আমার মা অসুস্থ হলে, বাবা যেমন দৌড়াদৌড়ি করেন, গত দুই বছর ধরে আমিও সেটাই করেছি। তাই কিছু পুরোনো ছবি আর ভিডিও সাজিয়ে, গান বাজিয়ে সেটাকে গ্লোরিফাই করা বন্ধ করা উচিত। এমন কি একটা লকডাউনের সময়কার তারাপীঠের ভিডিও পর্যন্ত ঐন্দ্রিলার নাম করে ঘুরপাক খাচ্ছে দেখলাম।

সব্যসাচীর বক্তব্য, আমি ঠিক জানি না, এগুলো করে বোধহয় তোমাদের চ্যানেল বা পেজ পয়সা পায় কিন্তু বিষয়টা আমার চোখে খুবই দৃষ্টিকটু লাগে। ইহ জীবনে কয়েক শত জুটিকে দেখেছি এসএসকেএম’এর বাইরের ফুটপাথে রাত কাটাতে, ভালোবাসে বলেই তারা থাকে। তবু পরিচিত মুখ বলে আমরা চর্চিত হই, তারা নয়। আসলে কি জানো, সে খবর বিক্রি হয় না।

শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ঐন্দ্রিলা ফিরছে, তাহলে মিরাকল হয়, সে হারতে সেখেনি

শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ঐন্দ্রিলা ফিরছে, তাহলে মিরাকল হয়।

অবশ্য তিনি এও জানিয়েছেন, হাল ছেড়ে দেওয়ার মুহূর্তেও সত্যি ফিনিক্স পাখির মতোই জেগে উঠেছে ঐন্দ্রিলা। মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা জেলায় জেলায় মন্দির মসজিদে অজস্র মানুষের প্রার্থনাই হয়তো তাকে শক্তি জোগাচ্ছে। টলিউড তো পাশে দাঁড়িয়েছেই। সবচেয়ে বেশি যে মানুষটির কথা উল্লেখ করেছেন সব্যসাচী, তিনি অরিজিৎ সিং। তার সঙ্গে নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে কথা হয় সব্যসাচীর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর