নজরবন্দি ব্যুরো : বর্তমান সময়ে শিক্ষিত হতে শুরু করেছে মানব সমাজ। উন্নত হচ্ছে সমাজ। কিন্তু কোন কোন স্তরের মানুষের চিন্তা ধারা এখনো বদলায়নি। বেশ কিছু জায়গায় এখনও বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। ফলে মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। এই বিষয় সরকার নিতে চলেছে নয়া সিদ্ধান্ত। মেয়েদের বিয়ের নুন্যতম বয়স ১৮ বছর হওয়া উচিৎ বলে মনে করা হয়েছিল ২০১৮ সালের আইন অনুযায়ী।
কিন্তু এবার মেয়ের বিয়ের বয়সের উপর পুনরায় বিবেচনা করা দরকার বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর হার কমানোর জন্যই এই প্রকার বিবেচনা করতে চলেছে সরকার। শুধু মৃত্যুর হার কমানোই নয় গার্হস্থ্য হিংসা, অপুষ্টিজনিত হার ইত্যাদি কমানোর জন্য একটি সঠিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ন চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন দেশের একটা বিরাট সংখ্যক মানুষ এখনও আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন। তাই তাঁরা কন্যা সন্তানদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেন। আইনজীবী জয়ন্ত নারায়নের মতে, আর্থিক ভাবে সচ্ছল নয় এমন পরিবার গুলিকে যদি ১৮ বছরের পরেও কন্যা সন্তানদের দ্বায়িত্ব নিতে হয় সেক্ষেত্রে সমস্যা বাড়বে।


তিনি মনে করছেন, লুকিয়ে বিয়ে দেওয়া, বয়সের জাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে বিয়ে দেওয়া, পালিয়ে বিয়ে করা, এবং নারী পাচারের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাবে। রাজস্থান, হরিয়ানার মতো জায়গায় কন্যা ভ্রুণ হত্যার ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাবে। আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ন চট্টোপাধ্যায় মনে করছেন এই সমস্ত দিকে খেয়াল রেখে মেয়েদের বিয়ের বয়স এই মুহুর্তে না বাড়ানোই ভালো। এবিষয়ে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সুষুপ্তা চৌধুরী জানান, গ্রামের মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে টিনেজ প্রেগনেন্সির ঘটনা বেশী ঘটে। অল্প বয়সে থাকার কারনে মেয়ের শরীর পূর্ণতা পায় না।
আরও পড়ুনঃ জয়েন্ট-এন্ট্রাস মেইন ও নিট-ইউজি পরীক্ষা স্থগিত রাখার আর্জি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
এবং মা ও সন্তানের শারীরিক সমস্যা ও দুর্বলতা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে প্রেগনেন্সি রিলেটেড ডিপ্রেশন, হাইপারটেনশন এবং অন্যান্য ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়। ২২ থেকে ২৩ বছরে মা হলে তার শারীরিক পূর্ণতা ঠিকঠাক হয়। তাই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছরের উপরে হলেই ভালো। কেন্দ্র সরকার মেয়েদের বিয়ের নূন্যতম বয়স ১৮ থেকে ২১ করার চিন্তাভাবনা করছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কতটা ফলপ্রসূ হবে সেই বিষয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।


সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



